‘পেদ্দি’ সিনেমায় নারী চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সিনেমাটিতে নারীর বস্তুকরণ এবং যৌন নিপীড়নকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল তাঁর।
সম্প্রতি করণ জোহরের সঞ্চালনায় ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন জাহ্নবী। সিনেমাটির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব, বিশেষ করে নারীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা অনুভব করেন বলে জানান তিনি।
জাহ্নবী বলেন, ‘ওই সিনেমার জন্য অনেক মানুষ কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাই এ বিষয়ে আমার কিছু বলা উচিত কি না, তা বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এ ধরনের গল্প আমাদের সমাজে, বিশেষ করে আমার লিঙ্গের মানুষের ওপর, যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এ জন্য যে অনুশোচনা তৈরি হয়েছে, তা আমি সব সময় বয়ে বেড়াব। আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? আরও সতর্ক হতে পারতাম? অবশ্যই, শতভাগ।’
সিনেমাটিতে তাঁর চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ‘এটি কি সমস্যাজনক ছিল? নারীর প্রতি কি চরম বস্তুকরণ করা হয়েছে? গল্পের মধ্য দিয়ে কি যৌন নিপীড়নকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে? হ্যাঁ। এখন আমার একটাই করণীয়, যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।’
নিজের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে জাহ্নবী জানান, শুরুতে তিনি নিজেকে বারবার দোষারোপ করেছেন। তবে পরিচালকের নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। জাহ্নবীর ভাষ্য, নতুন তথ্য সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিনেমার উপস্থাপনকে কীভাবে কম সমস্যাজনক করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি।
দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জাহ্নবী বলেন, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য হাতে পাওয়া কিংবা ক্যামেরার বিভিন্ন কোণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ থাকে না। তবে নিজের বিশেষ সুবিধা ও অবস্থান কাজে লাগিয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রীর কথায়, ‘একভাবে এটি ছিল আমার জন্য লঙ্ঘনের মতো একটি অভিজ্ঞতা। তবে এর একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতে কোনো পরিচালক প্রধান নারী চরিত্রকে এভাবে উপস্থাপন করার আগে দুবার ভাববেন।’
বুচি বাবু সানা পরিচালিত ‘পেদ্দি’ একটি ক্রীড়াভিত্তিক অ্যাকশনধর্মী সিনেমা। এতে রাম চরণ অভিনয় করেছেন পেদ্দি চরিত্রে। জাহ্নবী কাপুরের চরিত্রের নাম আচিয়াম্মা, যে পেদ্দির প্রেমের মানুষ।
গত ৪ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সিনেমাটিতে জাহ্নবীর চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব ও গল্পে তার ভূমিকা প্রতিষ্ঠার চেয়ে তার শারীরিক সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একটি দৃশ্যে আচিয়াম্মার অনাগ্রহ সত্ত্বেও পেদ্দির তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ এবং পরে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় তার সম্মতি ছাড়াই চুমু দেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিতর্কের পর পরিচালক বুচি বাবু সানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষমা চান। দর্শকদের উদ্বেগের বিষয়গুলো স্বীকার করে তিনি জানান, বিতর্কিত দৃশ্যগুলো পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট অংশে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিচালকের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পর্দার বাইরে ও ভেতরে, সব সময়ই নারীদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। কোনো নারী চরিত্রকে বস্তুকরণ করা বা অসম্মান করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সিনেমার কোনো অংশ যদি সেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মনে হয়ে থাকে, তাহলে আমরা সেই অনুভূতিকে সম্মান করি, উত্থাপিত উদ্বেগ বুঝতে পারছি এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট অংশগুলোতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’