নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং স্মরণীয় এক রাত উপহার দিল কোমো। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিয়েছে ইতালির ক্লাবটি। আর দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক আর্জেন্টাইন তারকা মিডফিল্ডার নিকো পাজ।
চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে ম্যান ইউনাইটেডকে ধসিয়ে দিয়েছে কোমো। দলের হয়ে দুর্দান্ত জোড়া গোলের সঙ্গে সতীর্থকে দিয়ে আরও একটি গোল করিয়েছেন নিকো পাজ। বাকি গোল দুটি আসে তাসোস দুভিকাস ও জেকোবো র্যামনের পা থেকে।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম সফরে নেমেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছে ‘লা রিয়ানি’ খ্যাত ক্লাব কোমো। আরবি লাইপজিগকে ঘরের মাঠে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর অবশ্য ফেইনুর্দের মাঠে গিয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে এবার আবারও বড় জয়ে ঘুরে দাঁড়াল ক্লাবটি।
অন্যদিকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন (৩টি ড্র ও ৩টি হার) থেকে এই মাঠে নেমেছিল রেড ডেভিলরা। তবে প্রতিপক্ষের মাঠে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খেতে হলো তাদের।
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল খাওয়ার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই, কোমোর মাঠে মাত্র ১১৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে বসে ইউনাইটেড। আর্জেন্টিনার জাদুকরী প্লেমেকার নিকো পাজের জোড়া গোলের শুরুটা হয়েছিল ওই দ্রুততম গোল দিয়েই।
এর মধ্য দিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের মূল পর্বে টানা দুই ম্যাচে প্রথম দুই মিনিটের মধ্যে গোল হজম করা ইতিহাসের প্রথম ইংলিশ ক্লাব হয়ে উঠল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড—ওল্ড ট্রাফোর্ডের কেউ যা স্বপ্নেও দেখতে চাননি।
২০০৮ সালে ম্যান ইউ যখন শেষবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল, তখন ইতালিয়ান ক্লাব কোমো খেলত সিরি ডি’তে। দুই ক্লাবের বিপরীতমুখী যাত্রার ব্যবধানটা এতটাই প্রকট যে, এই ম্যাচটি ছিল একেবারে একপেশে ও পূর্ণাঙ্গ এক ধ্বংসযজ্ঞ।
নিকো পাজ দুটি গোল করার পাশাপাশি মাঝের সময়ে তাসোস দুভিকাসকে দিয়ে একটি গোল করান। আর শেষদিকে জ্যাকোবো র্যামনের জোরালো হেডে কফিনের শেষ পেরেক ঠুকে দেয় কোমো।
ম্যাচের একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ম্যান ইউনাইটেড বুঝি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইউরোপিয়ান হারের লজ্জাজনক রেকর্ডটি ছুঁয়ে ফেলবে! ১৯৬৪ সালে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিংয়ের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল রেড ডেভিলরা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসকে তুলে নিয়ে জশুয়া জিরকজিকে নামানো হয়। এর আগে হালের ১১ কোটি পাউন্ড মূল্যের ইনিয়োস সাইনিং—মাথিউস কুনহা ও আন্দ্রেই সান্তোসকে তো প্রথমার্ধ শেষেই মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল!
অবশ্য ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে বদলি নামা আমাদ ডিয়ালোর ক্রসে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বল জাল করে একটি সান্ত্বনার গোল শোধ করেন জিরকজি, তবে তাতে দলের ভেতরের হতাশাজনক পরিস্থিতি এতটুকুও বদলায়নি।
ম্যাচ শেষে ইউনাইটেড সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে যাওয়ার সময় কোচ মাইকেল ক্যারিককে যেন নিজের ফুটবলারদের পাত্তাই দিতে দেখা যায়নি। বারবার দুই হাত তুলে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন তিনি।