৭ আগস্ট শুক্রবার, ঢাকা সিলেট মহাসড়কে গতির ঝড়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ মুহূর্তেই ঝরে যায় ৯টি তাজা প্রাণ। আর ওইদিন সারাদেশে বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মোট ১৬ জনের। সড়কে প্রতিদিনই এমন মৃত্যুতে আহাজারি বাড়ছে স্বজনদের। অথচ, গত এক দশকে সাড়ে ২২ হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত নয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৪ হাজার ২১১ জন, আর ২০১৮ সাল থেকে গত আট বছরে সড়কে ঝরেছে ৫৭ হাজার ১৯৮ প্রাণ। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে এই সংখ্যা ২ লাখের বেশি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হবে। সব দুর্ঘটনার তথ্য তো গণমাধ্যমে আসছে না। ১৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে পরে মারা যায়, সেটিও গণমাধ্যমে আসে না, পুলিশের মামলায়ও আসে না। এর সঙ্গে আমাদের আরও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ যোগ করতে হবে। যোগ করলে সেটি ৮০ হাজারের কাছাকাছি চলে যায়।
সড়কে মৃত্যু থামাতে বহু বছর ধরে বিশেষজ্ঞরা কথা বলছেন। যেখানে আনফিট গাড়ি চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, গতি নিয়ন্ত্রণ, স্বল্পগতির যান নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ নানা উদ্যোগের কথা বলছেন।
যোগযোগ বিশেষজ্ঞ শামছুল হক বলেন, বিআরটিএ বাসের রুট পারমিট দেয়, ফিটনেস দেয়—তাহলে ফিটনেস ছাড়া গাড়ি চলছে কেন? হাইওয়ে পুলিশ তৈরি করা হয়েছে এগুলো দেখভাল করার জন্য, দিনের পর দিন ফিটনেসবিহীন চলছে, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলছে, তাহলে এসব পুলিশকে রাখা হলো কেন? এই যে রাখা হলো কেন—এই একাউন্টেবিলিটির কথাটাও কেউ বলে না।
এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের মতে সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু জীবনহানিই নয় চাপ বাড়ছে স্বাস্থ্যঘাতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে অর্থনীতিতে।