ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিলীপ আগরওয়ালাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, হামলায় জড়িত অন্য আসামিদের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দিলীপ আগরওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলাটি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা হয়েছে। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস সেন্টারের পশ্চিম পাশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার বাদী আব্দুল জব্বারের অভিযোগ, ওই দিন সরকার পতনের এক দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকা ছাত্র-জনতার ওপর আসামিদের নির্দেশে প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় গুলিতে তিনি মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ও কোমরের ওপরের দিকে আহত হন। পরে তাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩০৯, ৩২৬, ১০৯ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার স্বর্ণ ও হীরা কেনার উৎস এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা আরেকটি মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গুলশান থানায় করা ওই মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।