শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আন্দোলন নয়, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ হচ্ছে নির্বাচন: চিফ হুইপ কৃষিপণ্য আমদানি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই: মন্ত্রী বিরোধী দলের বন্ধুরা সস্তা রাজনীতি করেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই : রিজভী তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে নেতানিয়াহুর আর সরকার গঠনের সুযোগ নেই : লাপিদ বিক্ষোভে নামছে পরিবর্তনের পক্ষের ইসরায়েলিরা ইউক্রেনের কাছে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলো যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৫০ ছাড়াল পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনা এখন ইরানি জনগণের দাবি: তেহরানের খতিব হেরে ফাইনালের স্বপ্নে ধাক্কা বাংলাদেশের রোনালদো ১৪, মেসি ২৭– দুজনকে ছাড়িয়ে গিল ১৩ সাফের দল ঘোষণা ভারতের হাকিমির হ্যাটট্রিকে পিএসজির গোল উৎসব পাস করা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও ফাঁকা থাকবে ৭ লাখ সিট

আন্দোলন নয়, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ হচ্ছে নির্বাচন: চিফ হুইপ

অনলাইন ডেস্ক / ২ জন দেখেছেন
আপডেট : October 31, 2026
আন্দোলন নয়, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ হচ্ছে নির্বাচন: চিফ হুইপ

আন্দোলন করে কোনোদিন সরকার গঠন করা যায় না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ হচ্ছে নির্বাচন। জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোটের মাধ্যমেই নতুন সরকার নির্বাচন করবে।

এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ হুইপ প্রশ্ন তুলে বলেন, আন্দোলন করে কি সরকার গঠন করা সম্ভব? সরকার গঠনের সঠিক পথ একমাত্র নির্বাচন। যারা আন্দোলনের নামে দেশে অস্থির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাদের অনুধাবন করতে হবে যে দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণই সবার আগে।

দেশে একটি সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে তার সুফল সরাসরি জনগণ পাবে। আর সরকার যদি ভালো কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দেশে একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করাই সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত ও মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিজেদের মধ্যে ক্রমাগত বিরোধ ও সংঘাত তৈরি করলে সেই সুযোগ তৃতীয় কোনো পক্ষ নেবে। দুই ভাই যখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে, তখন পাশের বাড়ির লোক এসে সালিশ করার সুযোগ পায় এবং একপর্যায়ে সে দুই ভাইয়ের সম্পত্তিই কবজা করতে চায়। যারা আমাদের বিভক্ত দেখতে চায়, নিজেদের কোন্দলের মাধ্যমে তাদের পথই সুগম করা হচ্ছে।

দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশ ধ্বংস হয়ে গেলে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কোনো জবাব দিতে পারব না। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছরে আমরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বহু মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি। এখন সব বিভেদ ভুলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার আসল সময় এসেছে। দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সব স্তর থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অপতৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির সার্বিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ একটি গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কিছু মানুষ এখনো অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে তথা দেশের ২০ কোটি মানুষকে জিম্মি করতে চায়। এ ধরনের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে প্রকৌশলীদের অবদান অনস্বীকার্য। দক্ষ ও সুশিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে এবং বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

প্রকৌশলীদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন যে, পেশাজীবীদের মেধা, জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়ন উদ্যোগে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন।

আইডিইবির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


অন্যান্য সংবাদ