জেজে স্মিটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নতুন ইতিহাস গড়ল নামিবিয়া। পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে আইরিশদের ৫ উইকেটে হারিয়ে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
এই জয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতল নামিবিয়া। আইসিসির কোনো সহযোগী দেশের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের এটি দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ হার। এর আগে ২০২১ সালে নেদারল্যান্ডসের কাছে সিরিজ হেরেছিল আইরিশরা।
উইন্ডহকে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নামিবিয়ার পেস আক্রমণের মুখে পড়ে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে আয়ারল্যান্ড। দুই ওপেনার টিম টেক্টর ও অ্যান্ডি বালবার্নি বিদায় নেন এক অঙ্কের ঘরেই।
কেড কারমাইকেল ও হ্যারি টেক্টর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালালেও উনবিংশ ওভারে তাদের ২৯ রানের জুটি ভাঙেন জ্যাক ব্রাসেল।
এরপরই আইরিশ ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামান জেজে স্মিট। তেইশতম ওভারের প্রথম বলে তিনি ফেরান আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক লরকান টাকারকে। একই ওভারের পরের অংশে কার্টিস ক্যাম্ফার ও জর্জ ডকরেলকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে তুলে দেন।
পরে গ্যাভিন হোয়েকে বিদায় করে ইনিংসে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন স্মিট। শেষ ব্যাটার জয় মুন্দ্রাকে ব্রাসেল তুলে নিলে মাত্র ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
সব মিলিয়ে ২১ রানে ৪ উইকেট নেন স্মিট। ব্রাসেলের শিকার ২৮ রানে ৩ উইকেট।
জবাবে রান তাড়ায় নেমে নামিবিয়াকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার, উদ্বোধনী জুটিতেই যোগ হয় ৪০ রান। লোরেন স্টিনক্যাম্পের ৪৪ বলে ৪৬ এবং অধিনায়ক জেরার্ড এরাসমাসের ১৮ বলে ঝড়ো ৩০ রানের ইনিংসে সহজ জয়ের পথ তৈরি হয়।
২২তম ওভারে জেন গ্রিনের ছক্কায় ১৭২ বল হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় নামিবিয়া।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের অন্যতম এই সহ-আয়োজক দলটির জন্য এটি ছিল মাত্র দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল তারা।
চলতি সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচে আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল নামিবিয়া; এবার শেষ ম্যাচ জিতে স্মরণীয় এক সিরিজ জয় দিয়ে ইতিহাস রচনা করল আফ্রিকান দলটি।