রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ও প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে হামে আরো ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪১৭ জন রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া আয়-ব্যয়ের হিসাবে বড় গড়মিল: টিআইবি নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলতে পারবে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু ১ ডিসেম্বর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বক্সে আগুন জলবায়ু গবেষণা ও স্টার্টআপে অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার ২৪ বছর পর ভারতের রেকর্ডে ভাগ বসাল পাকিস্তান পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন আমি মিথ্যা ন্যারেটিভ ছিঁড়েছি: রাশেদ খাঁন বাংলাদেশের হার, দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে জমে উঠল ফাইনালের লড়াই

যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ও প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক / ৪ জন দেখেছেন
আপডেট : November 1, 2026
যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ও প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি

যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে যুবকদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, বরং রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি দেশ গঠনেও যুবসমাজকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সংগ্রামে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এতদিন সংগ্রাম করেছি। এখন আমাদের সংগ্রামটা এই দেশকে নির্মাণ করার জন্য। বিল্ড দিস কান্ট্রি, বিল্ড দিস নেশন।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার পথে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকার স্মৃতিচারণা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংসদ ভবনের দিকে তাকিয়ে আমার ১৯৭৭ সালের কথা মনে পড়ে যায়। ওই বছর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে প্রথম যুব কনভেনশনের আয়োজন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে যুব মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর ও যুব কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ সময় তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

একইভাবে ক্রিসেন্ট পার্কের দিকে তাকিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারের কথা স্মরণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের যুবক ও যুব নারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে বেগম খালেদা জিয়া প্রত্যেক জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। তার প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

যুবসমাজের সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ যুবক। জনসংখ্যার এই কাঠামোকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এই বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য দেশকে আরও তিন বছর প্রস্তুতির সময় দেয়া হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে হলে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আর এই সক্ষমতা অর্জনে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান কারিগর এবং দেশের প্রধান চালিকাশক্তি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ দেশের মূল্যবান মানবসম্পদ।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, যুবকদের সামনে এগিয়ে আসার বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশ গঠন ও দেশের অগ্রগতির প্রতিটি ক্ষেত্রে যুবসমাজকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’ অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সবাইকে কাজ করতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো জরুরি।

জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ও উদ্যোগ দেখে আমি আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছি। স্বল্প পুঁজি নিয়ে কাজ শুরু করেও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এখন বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছেন এবং বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্য আমাকে উৎসাহিত করেছে।

একজন নারী উদ্যোক্তার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই উদ্যোক্তা বিভিন্ন ধরনের খাবার ও মিষ্টি তৈরি করে আয় করছেন। নিজের উপার্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু পরিবারকে সহায়তা করেননি, মেয়েকেও বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ ও সাফল্য দেশের যুবসমাজের সক্ষমতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তরুণদের কর্মসংস্থানের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। নিজের এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে তরুণরা কী করছেন, তা জানার চেষ্টা করি আমি। কিন্তু অধিকাংশ তরুণই বেকার এবং চাকরির জন্য আমার কাছে আসেন। এমনকি ক্লিনারের মতো পদেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের কাজ না পাওয়ার বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যুব অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, যুব অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ, ঋণসহায়তা ও অন্যান্য কর্মসূচি যথাযথভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে বেকারত্ব কমানো সম্ভব। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পাশাপাশি স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যাবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। যারা নতুন উদ্যোগ শুরু করতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো ন্যূনতম মূলধন দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে বড় বড় কোম্পানিকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনীয়। তবে একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও সহজভাবে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এতে ছোট উদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করতে পারবেন এবং সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। দেশে সংসদ গঠিত হয়েছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন সব রাজনৈতিক দল এবং বিশেষ করে যুবসমাজের উচিত সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতি গুরুত্ব দেয়া। সংসদের মধ্য দিয়েই দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সম্পর্ক তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রয়োজনভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী করা জরুরি। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেও চাকরি পাচ্ছেন না। অথচ তাদের শিক্ষার পেছনে পরিবারের পক্ষ থেকে জমিজমা বিক্রি করে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হলেও কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা তৈরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।

তিনি বলেন, দেশে ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক কম। অথচ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে কাজ করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, যা জাতীয় আয়ের একটি বড় উৎস। তবে শিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এতে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশ বেশি বৈদেশিক আয় অর্জন করতে পারবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দেশের অভ্যন্তরে উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বেকারত্বের সমস্যা মোকাবিলা করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

যুবসমাজকে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ হতাশ হওয়ার জাতি নয়। এ দেশের মানুষ সব সময় লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে গেছে। সেই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে যুবসমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।


অন্যান্য সংবাদ