রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ও প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে হামে আরো ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪১৭ জন রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া আয়-ব্যয়ের হিসাবে বড় গড়মিল: টিআইবি নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলতে পারবে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু ১ ডিসেম্বর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বক্সে আগুন জলবায়ু গবেষণা ও স্টার্টআপে অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার ২৪ বছর পর ভারতের রেকর্ডে ভাগ বসাল পাকিস্তান পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন আমি মিথ্যা ন্যারেটিভ ছিঁড়েছি: রাশেদ খাঁন বাংলাদেশের হার, দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে জমে উঠল ফাইনালের লড়াই

এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়ের কারণ কী?

অনলাইন ডেস্ক / ৬ জন দেখেছেন
আপডেট : November 1, 2026
এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়ের কারণ কী?

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইয়ের ২য় ধাপেই হোচট খেলো দেশের ৬ লাখ শিক্ষার্থী। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ও আইসিটিতে অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতির পেছনে নতুন কাঠামোর প্রশ্ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাস বিমুখতার কথা। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষ শিক্ষককের অভাবের পাশাপাশি ও ঘাটতি আছে শিক্ষা ব্যবস্থায়ও।

লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে, মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ছড়ার মতোই পড়াশুনা করে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। কেউ কেউ বা মা-বাবার জীর্ণ কুঁড়েঘরটা বদলে দিয়ে ফিরিয়ে আনতে চায় সচ্ছলতার সুদিন। তবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সে স্বপ্নের যাত্রা থমকে গেছে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর।

শিক্ষা বিভাগের তথ্য বলছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো ১২ লাখ ৪০ হাজার, ৭৯৮ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পারেনি প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী।

এবার ফল বিপর্যয় হয়েছে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে। দুই বিষয়ে পাশ করতে পারেনি ৩ লাখ ৮২ হাজার শিক্ষার্থী । এর মধ্যে ইংরেজীতেই ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। কেন এতো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর এই অবস্থা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও এবারের নতুন কাঠামোর প্রশ্নের জন্য অনেকটা কঠিন হয়েছে পরীক্ষা। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক নানা কারণ প্রভাব ফেলেছে শিক্ষার্থীদের ওপর।

যদিও শিক্ষকদের দাবি ফলের এ ধস নেমেছে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ বিমুখতার কারণে। মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরশীলতা, সোসাল মিডিয়া ও মাদকও বড় প্রভাব ফেলেছে এইচএসসি ফলে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিষয় ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাব আছে দেশে। বাধ্যতামুলক বিষয়ে যখন এমন ধস, তখন শুধু ফলাফলের পরিসংখ্যান দিয়েই এবারের বিপর্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

টিচার ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর এম. নাজমুল হক বলেন, ‘কারিকুলামের ওপর সামগ্রিক জোর দেয়া হয়নি। সেজন্য আমাদের শিখন ঘাটতি তো কিছুটা আছেই। কিন্তু সেই ঘাটতি মাথায় রেখে যদি প্রশ্ন করা হতো, তাহলে হয়তো অনেকটা সহজ হতে পারতো, সেটা করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ইংরেজি তো সবসময়ই খারাপ হয়, আমাদের ইংরেজি শিক্ষকের সংখ্যা খুব একটা ভালো নয়। ইংরেজি যারা পড়াচ্ছেন, তাদেরও খুব ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে না। আমাদের স্কুলগুলোর একটা প্রবণতা হচ্ছে, নিচের ক্লাসে গুরুত্ব না দিয়ে টার্মিনাল পরীক্ষাগুলো যখন আসে, তার এক বছর আগে থেকে তারা সেভাবে প্রস্তুতি শুরু করে। তার মানে, ভিত্তিটা কিন্তু কাঁচাই থেকে যাচ্ছে।’

বিষয়ভিত্তিক ফল, প্রশ্ন কঠিন হওয়া, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের ধরন পর্যালোচনা করেই প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা দরকার বলে মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


অন্যান্য সংবাদ