আওয়ামী লীগের আইন সহায়ক কমিটিতে আনোয়ার হোসেনের নাম, বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত!
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনীতির পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান ও পেশাগত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত আইন সহায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি ঘিরে আইনজীবী মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের (DTBA) সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। সে সময় তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব এবং পেশাগত কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর পেশাগত সংশ্লিষ্টতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পান। এ নিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের আইন সহায়ক কমিটির প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একজন আইনজীবীর পেশাগত ও সাংগঠনিক অবস্থানের এমন পরিবর্তনের ব্যাখ্যা কী?
কমিটি থেকে বাদ পড়ার ইঙ্গিত!
বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী আইনজীবী সহকারী সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুন্নবী বুলবুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুতর হিসেবে বিবেচনায় নিচ্ছি।”
অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু আমাদের নেতা। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ ছাড়া আমাদের কমিটিতে কেউ থাকার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরা শিগগিরই বসব। এ জন্য যা করণীয়, আমরা করব।”
তিনি আরও বলেন, “অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি এই কমিটিতে থাকবেন—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং রাজনৈতিক ও পেশাগত অবস্থান নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এখন দেখার বিষয়, আওয়ামী লীগের আইন সহায়ক কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক ও পেশাগত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের কী ব্যাখ্যা সামনে আসে।