বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ থামছেই না হাম উপসর্গে মৃত্যু, আরও ৭ প্রাণহানি স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়াসাকে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী, ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আলটিমেটাম বিশ্ববাজারে ১ শতাংশ কমলো স্বর্ণের দাম ইসরায়েলের নির্বাচনে ঝুলে গেছে, সরকার গঠন আরবদের হাতে ইরানে নতুন হামলার জল্পনার মধ্যেই পেন্টাগনের শীর্ষ পরিকল্পনাকারী বরখাস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো, এ সরকারের সময়ে গুম-ক্রসফায়ার হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের আস্থার জায়গায় নিতে চাই : আইনমন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের সমান অগ্রাধিকার পাচ্ছে উপনির্বাচন: সিইসি মার্কিন সরকারি কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার নিয়ে যা জানাল পুলিশ ‘সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর’ জিতলেন রোনালদো যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আহত শিশুদের পাশে দাঁড়ালেন হামজা চৌধুরী

ইসরায়েলের নির্বাচনে ঝুলে গেছে, সরকার গঠন আরবদের হাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১ জন দেখেছেন
আপডেট : October 29, 2026
ইসরায়েলের নির্বাচনে ঝুলে গেছে, সরকার গঠন আরবদের হাতে

ইসরায়েলের নির্বাচনে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পরও স্পষ্ট হয়নি কে গড়বে পরবর্তী সরকার। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, আর বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। এমন পরিস্থিতিতে ঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলো হয়ে উঠেছে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। কিন্তু তাদের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে বিরোধী শিবিরেই মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের বিরোধিতা করছেন নেতানিয়াহু। ফলে ইসরায়েলের ক্ষমতার লড়াই এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে প্রবেশ করেছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পাওয়া নির্বাচনী ফলাফলে ইসরায়েলের কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন, যা দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। ফলে সরকার গঠনের জন্য দুই প্রধান শিবিরকেই অন্য দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে হবে।

এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন নির্বাচন এড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটও সরকার গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রাআম এবং হাদাশ, তাআল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট। এই দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন ইসরায়েলের আরব ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের একটি বড় অংশ।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাঁর অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছেন অনেক আরব রাজনৈতিক নেতা ও ভোটার।

জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন বুধবার বলেন, ইসরায়েলের জনগণ নতুন নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে আরব নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

জাবারিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামনে দুটি পথ—বৈষম্য ও আধিপত্যের রাজনীতি অব্যাহত রাখা, অথবা ইহুদি ও আরবদের মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের সঙ্গে সরাসরি জোট গঠন নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতপার্থক্য রয়েছে।

আইজেনকোটসহ কয়েকজন নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তবে বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোলান লেখেন, ‘ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে বর্ণবাদী বিভাজন আমরা আর মেনে নিতে পারি না। এ দুই পক্ষের মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে।’

এই মতপার্থক্য বিরোধী শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কারণ, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা নিশ্চিত করতে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আরব দলগুলোকে সরাসরি সরকারে অন্তর্ভুক্ত না করেও তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের একটি বিকল্প সামনে এসেছে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আরব দলগুলো মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিতে সরকারকে সমর্থন দেবে।

তবে এ ধরনের সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষকদের বরাতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সমর্থনের এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের ভেতরে মতপার্থক্য থাকায় নেতানিয়াহুও সুযোগ পেতে পারেন। তিনি আইজেনকোটের শিবিরের কোনো অংশকে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করতে পারেন। এমনটি হলে সরকার গঠনের হিসাব আবারও বদলে যেতে পারে।

নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের পক্ষে তিনি নন।

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি আরবদের সমর্থন নিয়ে কোনো নেতার দেশ শাসন করা উচিত নয়। আমাদের অবশ্যই ডানপন্থিদের একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করতে হবে।’

লিকুদ পার্টির এই নেতা আরও বলেন, ‘ইহুদি ও জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন গ্রহণযোগ্য নয়।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইহুদি ভোটারদের মধ্যে সমর্থন নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে নির্বাচনী আসনের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, শুধু নিজের জোটের শক্তিতে তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি।

আলজাজিরার বিশ্লেষণে ইসরায়েলের চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে সরকার গঠনের আলোচনা চললেও তাঁর হাতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থাকবে।

এ অবস্থায় ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া বা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য নেই।

টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, ভোট গণনার পূর্ণাঙ্গ ফল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রকাশের কথা। নির্বাচনের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৪ নভেম্বর।

ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলবে। নেতানিয়াহু ডানপন্থি জোটের সমর্থন ধরে রেখে সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন, নাকি আইজেনকোট আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিকল্প সরকার গড়ার পথ বেছে নেবেন—তা এখনো নিশ্চিত নয়।


অন্যান্য সংবাদ