চ্যাম্পিয়নস লিগের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ভিতিনহা এবং ফ্যাবিয়ান রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত করে ফরাসি জায়ান্টরা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় পার্ক দে প্রাঁসে দুই দলই বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে। তবে দেজিরে দুয়ের গোলে প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পিএসজি। দ্বিতীয় অর্ধে বার্সেলোনার জাবি এস্পার্ত গোল করে সমতায় ফেরান। এরপর লুকাস হার্নান্দেজ গোল করে পিএসজিকে আবারও এগিয়ে দেন। কিন্তু লামিন ইয়ামাল দুর্দান্ত এক গোলে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান। শেষ পর্যন্ত ভিতিনহা ও ফ্যাবিয়ানের পরপর দুই গোলে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার টানা জয়ের ধারায় ছেদ পড়ে।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। বার্সেলোনার পেদ্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সের বাইর থেকে শট নেন খিচা কাভারেস্কাইয়া। কিন্তু বল পোস্টের নিচে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে ওসমান দেম্বেলে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বাইরে শট নেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
ম্যাচের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠ ছাড়েন ওসমান দেম্বেলে। বল নিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে ছোটার সময় পায়ে টান পড়ে ফরাসি স্ট্রাইকারের। বদলি হিসেবে নামেন ফেরান তোরেস। শুরুতেই গড়বড় করে বসেন তিনি। তার একটি শট ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়া। পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তোরেসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন এবং পপ-আপ করে আসা ফ্যাবিয়ানের বাউন্সিং ভলিও পুশ করে ফিরিয়ে দেন।
৩৮তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল পায় পিএসজি। রক্ষণে ইয়ামালের দেওয়া একটি ক্যাজুয়াল পাস ধরে ফেলেন জোয়াও নেভেস। তাঁর বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে চমৎকার কার্লিং শটে গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন দুয়ে।
এর কিছুক্ষণ পরেই সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পান দানি ওলমোর জায়গায় বদলি হিসেবে নামা ফারমিন লোপেজ। কিন্তু ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর চিপ শট আটকে দেন পিএসজি গোলকিপার মাতভে সাফোনভ।
প্রথম অর্ধে ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল পিএসজির। তাদের ১২টি শটের মধ্যে ১০টিই ছিল লক্ষে । ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমার্ধে বার্সেলোনা আর কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষকে এতগুলো অন-টার্গেট শট নিতে দেয়নি।
দ্বিতীয় অর্ধেও আক্রমণ ধরে রাখে পিএসজি। দুয়ে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা আশরাফ হাকিমিকে বল বাড়িয়ে দিলেও, হাকিমির শট সরাসরি চলে যায় গার্সিয়ার হাতে।
৫০তম মিনিটে নিজেদের ভুল সুযোগ নষ্ট করার মাশুল গুনতে হয় স্বাগতিকদের। দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণ থেকে ড্রিল শটে সাফোনভকে পরাস্ত করে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান এস্পার্ত।
এরপর গাভির একটি জোরালো শট চমৎকারভাবে আটকে দেন সাফোনভ। তবে পিএসজি দ্রুতই আবার ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে তুলে নেয়। প্রথমে ফেরান তোরেসের শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। এরপরের কর্নার থেকেই দুয়ের বাড়োনো ক্রসে দারুণ হেড নিয়ে বল জালে পাঠান হার্নান্দেজ।
হাল ছেড়ে দেয়নি বার্সেলোনা। ম্যাচের ১১ মিনিট বাকি থাকতে একক নৈপুণ্যে বার্সাকে ম্যাচে ফেরান লামিন ইয়ামাল। ওয়ারেন জায়ার-এমেরির ক্লিয়ার করতে না পারা একটি লম্বা বল চমৎকারভাবে ধরে ড্রিবল করে বক্সে ঢোকেন এই তরুণ তুর্কি। এরপর দুরুহ কোন থেকে রকেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান।
এই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ঠিক দুই মিনিট পরেই পিএসজিকে আবারও এগিয়ে দেন ভিতিনহা। হাকিমির একটি ক্রস পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন জেরার্ড মার্টিন। সেই সুযোগে বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে গার্সিয়াকে কোনো সুযোগ না দিয়েই গোল করেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে পিএসজির তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন ফ্যাবিয়ান রুইজ। হাকিমির একটি নিচু ক্রস সামান্য দিক পরিবর্তন করলেও তা পেয়ে যান অলক্ষিত দাঁড়িয়ে থাকা এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। খুব কাছ থেকে সহজেই বল জালে ঠেলে দেন তিনি।
২০২৬-২৭ মৌসুমে ফ্লিকের অধীন বার্সেলোনা ছিল অপরাজেয়। এই ম্যাচের আগে টানা ১১টি জয়ে তারা তুলে নিয়েছিল ৫০টি গোল। তবে পিএসজির কাছে হেরে তাদের সেই নিখুঁত জয়ের ধারা থেমে গেল।
পুরো ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ৪০টি শট নেয় (পিএসজি ২২টি, বার্সেলোনা ১৮টি) এবং অপটার তথ্যমতে দুই দল মোট ১১টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল (পিএসজি ৬টি, বার্সেলোনা ৫টি)। গার্সিয়া পুরো ম্যাচে মোট ১০টি সেভ করেন।