ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তিনি আবারও সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, আলোচনা ভেঙে গেলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, দুই দেশের মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য আবার চেষ্টা করা উচিত। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেও তেহরান আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করছে না। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে নতুন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার প্রশ্ন। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলে কোন শর্তে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ২৪ অক্টোবরের বক্তব্যে পেজেশকিয়ান নতুন কোনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত বা আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিও আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ইরানের পাল্টা অবস্থান নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
২৪ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব জানিয়েছে। তবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এখানে পাকিস্তানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং আলোচনার পথ তৈরিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম সামনে এসেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকবে।
জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও পরিস্থিতিটি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয়, আমদানি খরচ এবং বিভিন্ন পণ্যের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপথ, জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।