রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ও প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে হামে আরো ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪১৭ জন রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া আয়-ব্যয়ের হিসাবে বড় গড়মিল: টিআইবি নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলতে পারবে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু ১ ডিসেম্বর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বক্সে আগুন জলবায়ু গবেষণা ও স্টার্টআপে অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার ২৪ বছর পর ভারতের রেকর্ডে ভাগ বসাল পাকিস্তান পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন আমি মিথ্যা ন্যারেটিভ ছিঁড়েছি: রাশেদ খাঁন বাংলাদেশের হার, দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে জমে উঠল ফাইনালের লড়াই

বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়, আঘাত হানতে পারে কখন-কোথায়

অনলাইন ডেস্ক / ১ জন দেখেছেন
আপডেট : November 1, 2026
বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড়, আঘাত হানতে পারে কখন-কোথায়

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (১ নভেম্বর) আবহাওয়ার ২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি শনিবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এটি আরও পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নতুন নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘মুরাসু’। এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামীকাল ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর এবং ৩ নভেম্বর সকালে স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

তামিল ভাষার ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল। ঘূর্ণিঝড়টির নাম প্রস্তাব করেছে ভারত। ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে এর শক্তি সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় কম হতে পারে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। পরদিন এসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকায় ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারি বৃষ্টির সতর্কতা দেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

২ নভেম্বর বিকেলে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ উঠতে পারে ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। তখন ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার ছিল। নতুন সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি তুলনামূলক দুর্বল হলেও উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


অন্যান্য সংবাদ