শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দূর্গা পূজায় এবার সরকারি ছুটি ৫ দিন! তৃতীয় দফা কমলো সোনার দাম  এবার ১০ এয়ারবাস কিনবে সরকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ভারতের রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ওয়ার্নারের জোড়া শাস্তি ভারত সফর নিয়ে দিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় ঢাকা বিয়ের খবর কি সত্যি? মুখ খুললেন পূজা লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি VACANCY ANNOUNCEMENT যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ সিন্ধুর পানি ইস্যুতে প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হবে : খাজা আসিফ আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম দ. কোরিয়ার সাবেক মন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজের পোস্টে অন্যের অশান্তি !

স্পোর্টস ডেস্ক / ১১২ জন দেখেছেন
আপডেট : August 26, 2021

ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোন যতই হাতের নাগালে আসছে প্রিয়জন কিন্তু ততই দূরে সরে যাচ্ছে! এক সময় ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোন ছিল বিলাসী। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেটাই এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে। মানুষ একবেলা না খেয়ে থাকার কথা চিন্তা করতে পারে কিন্তু হাতের স্মার্টফোন এবং তার ইন্টারনেটহীনতা ভাবতেই পারেনা।

অনেকের কাছে ব্যাপারটা মাদকের মতোই নেশালু। ফলে দৈনন্দিন সকল খুঁটিনাটি তারা শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর সেই সূত্র ধরে ছড়িয়ে যায় বিভিন্ন পরিবারে। একটা সময় মানুষের ঘরের গোপন খবর গোপন রাখাই নিয়ম ছিল। এমনকি পরিবারের বিশেষ করে যৌথ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও জানাতে দ্বিধা বোধ করতো। পারিবারিক মান, অভিমান কিংবা ঝগড়া বিবাদ অথবা আনন্দ উৎসবই হোক না কেন তা একান্তই নিজেদের ভেতরই ছিল।

এখন মানুষ মান অভিমান করলে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফলে অন্যেরা এমনকি অপরিচিতরা সেটা জানছেন। আবার সে মান ভাঙাতে হাজবেন্ড কি ‘উপহার’ দিলো সেটাও পরে শেয়ার করেন। কেউ হয়তো টাকা দিয়ে বানানো তোড়া উপহার দিচ্ছেন কেউবা হিরের দামি আংটি। ফলে একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েও আশা রাখেন তার মান ভাঙাতে তার স্বামীও তাকে এসব দেবেন।

কিন্তু আসলেই কি সেটা সম্ভব বা বাস্তব? ফলে এসব নিয়ে বাদানুবাদ আরও বেড়ে যায়। সাধারণ বিবাদ পৌঁছে যায় বিচ্ছেদ পর্যন্ত। অথচ যাদের বিবাদ নিয়ে এসবের সৃষ্টি তারা হয়তো সুখেই কাটাচ্ছেন সংসার। আবার বিবাহবার্ষিকী কিংবা জন্মদিনে স্ত্রী বা প্রেমিকাকে চমকে দিতেও অনেকে অনেক ধরনের আয়োজন করে থাকেন। এক শ্রেনীর মানুষ এসব দেখে মনে মনে সেরকম কিছু প্রত্যাশা করতে থাকেন। আর এসব প্রত্যাশা যখন পূরণ হয়না তখন একটা চাপা ক্ষোভ ভেতরে ভেতরে থেকে যায়, যা পরবর্তীতে বিস্ফোরণে রুপ নেয় অনেকের ক্ষেত্রেই।

তাই নিজেদের আনন্দঘন মুহূর্তের সকল ছবিই যে শেয়ার করতে হবে বিষয়টা সেরকম না। কিছু জিনিস একান্ত থাকাই শ্রেয়। আপনার প্রতি প্রিয়জনের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হয়তো অন্যরকম, তাই অন্যের পোস্ট দেখে সেরকম কিছু আশা করাটাও কিন্তু ঠিক না। যদিও এটা যে যার জায়গা থেকেই অনুধাবন করা উচিত কিন্তু বর্তমান অস্থির সময়ে সে সময় আছে কার?

তাই যারা এসব পোস্ট শেয়ার করেন সচেতনতাটা সেখান থেকেই হওয়া জরুরি। কেননা আপনার সুখ যাতে অন্যের অসুখের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। এখানে বলে রাখা ভালো, ফেসবুকে অনেকেই আছেন যারা অন্যের ছবি কপি করে নিজেদের বলেও চালিয়ে দেয়।

অর্থাৎ ফেসবুকের বা অন্য সামাজিক মাধ্যমের সকল পোস্টই যে বাস্তবিক সেটা নাও হতে পারে। কিন্তু সে সচেতনতা তো আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সৃষ্টি করতে পারবেনা। সচেতন হতে হবে আমাদের, অর্থাৎ ব্যবহারকারীর। কেননা সামাজিক অবস্থান এবং ব্যক্তি ভেদে মানুষের অনুভূতির বা আবেগের প্রকাশ ভিন্ন হওয়াটা স্বাভাবিক।

এমনকি একজন মানুষ চাইলেও তার আর্থিক দুর্বলতার কারণে অনেক কিছুই করতে পারেনা। আবার অনেকে এটাকেই অজুহাত মানেন। তাদের ভাষ্য, চাইলে যে কেউই অল্প অল্প সঞ্চয় করে প্রিয়তমাকে দামি গিফট করতেই পারে। তবে সেটাও কিন্তু সকল অবস্থায় সম্ভব নাও হতে পারে, পরিস্থিতির ভিন্নতায়। কিন্তু আমরা কি সেটা বুঝি?


অন্যান্য সংবাদ