রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন মীর শাহে আলম ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধের পথে’ ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি স্থগিত হলো প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ১৫ প্রকল্পের অনুমোদন সরকার নিজেদের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে: জামায়াত আমির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপালের জামিন নামঞ্জুর যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে নিউ ইয়র্কের চার্চ ভারতের বন্ডবাজারে ভয়াবহ পতন, বড় বিপদে অর্থনীতি? জামায়াতের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার আহ্বান ইরানের ডি থ্রি টি-টোয়েন্টির পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ চেলসির মাঠে জয়ের খরা কাটাল টটেনহাম ম্যাচ জিতিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন আলভারেজ টানা চতুর্থ দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত? মুখ ঢেকে কথা বলায় লাল কার্ড দেখলেন নেইমার, পরে ক্ষোভ প্রকাশ

‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বক্তা-হুজুররা কেন সোচ্চার হতে পারেন না?’

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ জন দেখেছেন
আপডেট : October 24, 2026
'ধর্ষণের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বক্তা-হুজুররা কেন সোচ্চার হতে পারেন না?'

বলাৎকার ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আলেম সমাজের বড় অংশকে সোচ্চার হতে দেখেন না— বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সমালোচনা করেন। পাঠকের জন্য তার ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো।

পোস্টে বলেন, বাংলাদেশের আলেম সমাজে অনেক শ্রদ্ধেয় মানুষ আছেন। হজ করতে গিয়ে, নামাজের সময় কিংবা ইসলামী বয়ান শুনতে গিয়ে তাঁদের কাউকে কাউকে কাছে থেকে দেখেছি। আবার মাওলানা আহমাদুল্লাহর মতো কিছু আলেমের মানবিক কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কিন্তু তাদের বাইরেও বৃহত্তর আলেম সমাজে বহু মানুষ আছেন (যেমন: মাদ্রাসার শিক্ষক)।

তিনি বলেন, এদের কেউ কেউ শিশুদের বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ কবিরা গুনাহে লিপ্ত। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা হয়তো কম, কিন্তু একেবারে নগণ্য নয়। তাঁরা দিনের পর দিন এমন জঘন্য পাপ করে চলেছেন, যে ধরনের পাপের কারণে আল্লাহ হজরত লুত (আ.)-এর সময়ের জাতিকে কঠোরতম শাস্তি দিয়েছিলেন।

বলেন, আমার খুব অবাক লাগে যে, এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আলেম সমাজের বড় একটি অংশকে কখনো সোচ্চার হতে দেখি না। খাবার, পোশাক, বিনোদন, বাক-স্বাধীনতা—নানা বিষয়েও তাঁরা ফতোয়া দেন। দু-একটি ক্ষেত্রে মব তৈরি করে মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করা হয়। অথচ নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধের বিরুদ্ধে নেতৃস্থানীয় আলেম, জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা বা হুজুররা কেন সোচ্চার হতে পারেন না?

এ দেশে ইসলামবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র রয়েছে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, আলেম সমাজকে বুঝতে হবে, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কারণেই তাঁরা এসব ষড়যন্ত্রের মধ্যেও সম্মানের সঙ্গে টিকে আছেন। কিন্তু বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে তাঁদের কেউ কেউ বরং অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন। এটি করলে এসব অপরাধের দায় কোনো না কোনোভাবে তাঁদের ওপরও বর্তাবে। তাঁদের অনেকে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হবেন। সামগ্রিকভাবে আলেম সমাজের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কমে যাবে। এতে বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, আশা করি, অচিরেই আলেম সমাজের নেতৃত্বের ঘুম ভাঙবে। মাদ্রাসায় বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুশাসনের আলোকে কঠোর বক্তব্য তাঁদের কাছ থেকে শুনতে পাব। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাঁরা নিজেরাই সোচ্চার হবেন এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবেন।


অন্যান্য সংবাদ