শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দূর্গা পূজায় এবার সরকারি ছুটি ৫ দিন! তৃতীয় দফা কমলো সোনার দাম  এবার ১০ এয়ারবাস কিনবে সরকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ভারতের রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ওয়ার্নারের জোড়া শাস্তি ভারত সফর নিয়ে দিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় ঢাকা বিয়ের খবর কি সত্যি? মুখ খুললেন পূজা লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি VACANCY ANNOUNCEMENT যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ সিন্ধুর পানি ইস্যুতে প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হবে : খাজা আসিফ আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম দ. কোরিয়ার সাবেক মন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড

দু’তিন দিনের টানা বৃষ্টি: পাহাড় ধ্বসের আতঙ্ক খাগড়াছড়িতে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিদি / ৬৭ জন দেখেছেন
আপডেট : July 2, 2021

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নদ-নদীর পানি যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। জেলা সদরের অনেক গ্রামীণ সড়কে পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে আতঙ্কিত স্থানীয়রা। পাহাড়জুড়ে এমন শত শত পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বছরের পর বছর। বিগত বছরগুলোতে পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

জেলা সদরের সবুজবাগ, শালবন, মোহাম্মদপুর, এডিসি হিল, কুমিল্লাটিলাসহ কয়েকটি এলাকা এবং জেলার মানিকছড়ি, দীঘিনালা, রামগড়, মহালছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় অনেকগুলো পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবার পাহাড়ের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছেন। বিশেষত জেলা সদরের শালবন, সবুজবাগ, কলাবাগান এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায় বা পাদদেশে ঘরবাড়ি করে রয়েছেন ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে।

কিছু ভূমিহীন পরিবার বাধ্য হয়ে বসবাস করলেও অধিকাংশ পরিবার পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তুলছেন। তারা বর্ষার শুরুতে পাহাড়ের ঢালুতে মাটি কেটে রাখেন। পরবর্তীসময়ে বৃষ্টি হলে পাহাড় ধসে পড়ে। এরপর সেখানে বসতি সম্প্রসারণ করেন। শহরের সবুজবাগ এলাকা পাহাড়বেষ্টিত হলেও বর্তমানে সেখানে পাহাড় কেটে কেটে বসতি নির্মাণ করা হয়েছে। অনেকে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে ইট কংক্রিটের ঘর তুলছেন।

এদিকে জেলা শহরের শালবনে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের অধিকাংশই নিরীহ ও ভূমিহীন। যাদের অনেকে সরকার পুনর্বাসিত করলেও তারা নিজেদের ভূমি থেকে ১৯৮৬ সালে বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে উচ্ছেদ হয়েছিলেন। ওসব পরিবারগুলোকে তৎকালীন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পুনর্বাসিত জমি থেকে তুলে এনে শালবনসহ বিভিন্ন উপজেলা সদরের আশপাশে বসানো হয়।

মধ্য শালবনের বাসিন্দা আব্দুল সালাম ক্ষোভের সঙ্গে জানান, পুনর্বাসন সূত্রে পাওয়া ৫ একর ভূমি থেকে তুলে এনে এখানে (শালবন) বসানো হয়েছে। পাহাড় কেটে বসতি করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি।
খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু দাউদ জানান, একতো বালু পাহাড়, বৃষ্টি হলেই ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাছাড়া কেউ জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ করছে। এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলায় প্রভাবশালী ও ভূমিখেকোরাও অনেক পাহাড় দখল ও কাটায় জড়িত। খোদ জেলা শহরের সবুজবাগ, মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় বড় বড় পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তুলেছেন। এক্ষত্রে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।

প্রশাসনের তথ্যমতে, বর্তমানে জেলায় ৮৯৭টি পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি পৌর শহরের এই সংখ্যা প্রায় ২শ। ইতোমধ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন মিলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলায় পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, শহরে পাহাড়ের উপর বসবাস করে এমন ৯০টি পরিবারকে আমরা ঝুকিঁপূর্ণ বসতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছি। একই সঙ্গে ওই পাহাড়ের নিচে বসবাসরত পরিবারগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি হিসেবে গণ্য করছি। ইতোমধ্যে ৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে কীভাবে স্থায়ীভাবে অন্যত্র পুনর্বাসন করা যায় তা আমরা ভাবছি।

২০১১ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরের বছর হাইকোর্ট খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজার এলাকায় পাহাড় কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা এত বছরেও কার্যকর করা হয়নি।


অন্যান্য সংবাদ