সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

এইডস রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু বেড়েছে

অভিজিত বনিক ,বিশেষ প্রতিনিধি
আপডেট : জানুয়ারি ২০, ২০২৪

অভিজিত বনিক

দেশে এইডস বিষয়ে নানান কর্মসূচি পালিত হলেও দু:খজনক ভাবে বাংলাদেশে এইডস রোগী বাড়ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এইডস রোগে মৃত্যুর হার। এটি নি:সন্দেহে দেশের জন্য খারাপ খবরের একটি। কারণ প্রতি বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এইডস রোগের বিষয়ে নানান কর্মসূচি পালন করে যাতে এইডস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।এজন্য প্রতিবছর কোটি কোটিও খরচ হয়। বিদেশ থেকেও অনুদান আসে। কিন্তু দু:খজনক বিষয় হলো যেভাবে এইডস নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা সেইভাবে হচ্ছে না। গত এক বছরে ১ হাজার ২৭৬ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আর এক বছরে মারা গেছে আড়াই শতাধিক এইডস রোগী। বাংলাদেশে এইডস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এক বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। গতকাল মহাখালীতে বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। এ বছর আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ১১৮ জন বাংলাদেশী নাগরিক। বাকি ১৫৮ জন কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে পড়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা। গত বছর সারা দেশে ৯৪৭ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়। এইডস আক্রান্তদের মধ্যে ২৩২ জন মারা যায়।
এ বিষযে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ১৯৮৯ সালে দেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৯৮৪ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮৬ জনের। বাংলাদেশে এইচআইভি ভাইরাস বহনকারী মানুষের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। পুরুষ যৌনকর্মীদের মধ্যে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া পুরুষ সমকামীদের মধ্যেও এ রোগ ছড়াচ্ছে। এ বছর যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ। প্রতিবেদনে জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. মাহফুজুর রহমান সরকার তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন । তাতে বলা হয়, এক বছরে আক্রান্ত বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪২ জন রোগী ঢাকার। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৪৬, রাজশাহীতে ১৭৫, খুলনায় ১৪১, বরিশালে ৭৯, সিলেটে ৬১, ময়মনসিংহে ৪০ এবং রংপুর জেলায় ৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত এক বছরে। তাদের মধ্যে ৮৫০ জন পুরুষ, ২৭৮ জন নারী। ৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ গত এক বছরে এইডস আক্রান্ত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর প্রমুখ।
মহাপরিচালক তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক রোগ নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও এইডস নিয়ন্ত্রণে থমকে আছে। এইডস নির্মূলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় আরো বেশি জোর দিতে হবে। পাশাপাশি রোগটি যেন না ছড়ায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের (আক্রান্তদের) দূরে সরিয়ে রাখা নয়। সরকার এইডসের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা ওষুধসহ সব ধরনের সেবা দিচ্ছে।’
আমাদের এখানে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসায় রি-ইউজেবল অনেক কিছু ব্যবহার করা হয়। ওই জিনিসগুলো জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে দেখা যাবে একজন নির্দোষ ব্যক্তি যিনি একটি কলোনস্কপি, এন্ডোস্কপি বা যেকোনো একটি পরীক্ষা করাতে এসে আক্রান্ত হয়ে গেলেন।’
অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘মানুষ এখন এক জায়গায় অবস্থান করছে না। সারা বিশ্বের সঙ্গে অবাধ যাতায়াত করছে। ফলে সংক্রামক রোগও দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে যায়। মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার দুটি কারণ হতে পারে। আগে হয়তো অজ্ঞাত রোগ হিসেবে মারা যেত। এখন এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ভালো হওয়ায় রোগী শনাক্ত বেশি হচ্ছে, এইডস আক্রান্তের মৃত্যু এইডস হিসেবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে। আরেকটা হতে পারে, বাংলাদেশে যারা এইডস আক্রান্ত তাদের বয়স হয়েছে, তাদের অনেকের ন্যাচারাল ডেথ হচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ