রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ও প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে হামে আরো ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪১৭ জন রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া আয়-ব্যয়ের হিসাবে বড় গড়মিল: টিআইবি নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলতে পারবে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু ১ ডিসেম্বর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বক্সে আগুন জলবায়ু গবেষণা ও স্টার্টআপে অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার ২৪ বছর পর ভারতের রেকর্ডে ভাগ বসাল পাকিস্তান পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন আমি মিথ্যা ন্যারেটিভ ছিঁড়েছি: রাশেদ খাঁন বাংলাদেশের হার, দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে জমে উঠল ফাইনালের লড়াই

সরকারকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিল জামায়াত!

অভিজিত বনিক / ৩০ জন দেখেছেন
আপডেট : November 1, 2026

সরকারকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিল জামায়াত, দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে রাজপথে ১১ দলীয় ঐক্য
অভিজিত বনিক
সরকারকে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এর মধ্যে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের ঘোষণা না দিলে রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সময়সীমা ঘোষণা করেন।
জামায়াত আমির বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই সরকারকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে। সরকার সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আপাতত বিরোধী দলের নতুন কোনো কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।
সাত দফা দাবিতে চাপ বাড়াচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য
১১ দলীয় ঐক্যের উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন।
২. জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
৩. বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন।
৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ।
৫. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ।
৬. দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
৭. প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
লংমার্চ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ
সাত দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে দীর্ঘ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে জোট।
লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা সরকারের সমালোচনা করেন এবং দাবি বাস্তবায়নে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
৯ নভেম্বরের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল
আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে জামায়াতের এই সময়সীমা দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি, অন্যদিকে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা—দুই দিক থেকেই সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
এখন দেখার বিষয়, সরকার ৯ নভেম্বরের আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে কী আলোচনা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা না এলে বিরোধী জোটের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গনের।


অন্যান্য সংবাদ