বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অবশেষে সৌদিতে ফ্লাইট চালু করছে বিমান ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশই প্রত্যাশা ক্রীড়া সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে : প্রধানমন্ত্রী সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ ঢাকের তালে নাচলেন শাওন, মাতলেন সিঁদুর খেলায় অভিনয় ‘সেকেন্ড চয়েস’, কর্পোরেট দুনিয়ায় প্রভা! বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু ফুটপাতে খাবারের দোকান দিতেও লাগবে লাইসেন্স, কার্যকর ১ নভেম্বর ১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার, আহত ১ লাখ ৭৬ হাজার ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির জামায়াতের ‘জান্নাতের পথ’ নিয়ে রাশেদ খাঁনের প্রশ্ন

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশই প্রত্যাশা

অভিজিত বনিক, সম্পাদক ও প্রকাশক / ৩৭ জন দেখেছেন
আপডেট : October 22, 2026

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশই প্রত্যাশা
— অভিজিত বনিক
বাংলাদেশ আমাদের সবার। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই একটি মানবিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতেই দেশ পরিচালিত হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাম্যের আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে—দেশের পরিচয় কোনো একক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব মানুষের সম্মিলিত আবাসভূমি।
প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম নিরাপদে ও নির্ভয়ে পালনের অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতা কখনো বিদ্বেষ, বৈষম্য কিংবা নির্যাতনের কারণ হতে পারে না। অন্যের ধর্মকে কটাক্ষ করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া কিংবা ধর্মের অজুহাতে কারও ওপর অত্যাচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। পাপ-পুণ্যের বিচার সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিয়ে মানুষের সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব আমাদের সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়। উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিটি মানুষ নিরাপদ বোধ করেন এবং অন্যের আনন্দে অংশ নিতে পারেন। তবে উৎসবকেন্দ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সারা বছর সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়; বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে সহনশীল, সৎ ও মানবিক হতে উদ্বুদ্ধ করে। তাই ধর্মকে বিভেদের হাতিয়ার না বানিয়ে শান্তি, কল্যাণ ও মানবতার বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ, গুজব ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে পরিচয় নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক নেতৃত্বেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে—ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানুষের মর্যাদা ও অধিকার সমান।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভীত বা বঞ্চিত হবেন না; যেখানে ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেবেন এবং সবাই দেশের উন্নয়নে সমানভাবে অবদান রাখবেন।
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, হোক আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অঙ্গীকার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠুক সবার বাংলাদেশ।


অন্যান্য সংবাদ