বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অবশেষে সৌদিতে ফ্লাইট চালু করছে বিমান ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশই প্রত্যাশা ক্রীড়া সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে : প্রধানমন্ত্রী সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ ঢাকের তালে নাচলেন শাওন, মাতলেন সিঁদুর খেলায় অভিনয় ‘সেকেন্ড চয়েস’, কর্পোরেট দুনিয়ায় প্রভা! বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু ফুটপাতে খাবারের দোকান দিতেও লাগবে লাইসেন্স, কার্যকর ১ নভেম্বর ১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার, আহত ১ লাখ ৭৬ হাজার ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির জামায়াতের ‘জান্নাতের পথ’ নিয়ে রাশেদ খাঁনের প্রশ্ন

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিপুল অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক / ৩১ জন দেখেছেন
আপডেট : October 21, 2026
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিপুল অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কেবল ব্যাংকখাতের সংকট কাটাতেই দরকার অন্তত ৪০ বিলিয়ন ডলার। নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, বিদ্যমান এই সার্বিক অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সংকট কাটিয়ে উঠতে দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়ন অপরিহার্য। তবে দাতাগোষ্ঠীর ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কারেও জোর অর্থনীতিবিদদের।

সামগ্রিক অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা কাটাতে যখন বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন, তখন উত্তরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকখাত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এ খাতের মোট খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুরো খাত৷

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলছেন, ব্যাংকখাতের পুঞ্জীভূত এই সংকট কাটিয়ে উঠতেই দরকার প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে যে অর্থনীতি, সে অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা এবং তা উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা প্রাপ্ত হয়েছি। ব্যাংক ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার থেকে উদ্ধার পেতে খুবই রক্ষণশীল হিসেব যদি করা যায়, তাহলে ৪০ বিলিয়ন ডলার লাগবে।’

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কতটা সক্ষমতা রয়েছে সরকারের? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেয়া সংস্কারের পরামর্শ বাস্তবায়ন কি আদৌ সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিদেশি ঋণ এনে সাময়িক তারল্য জোগালেই সমস্যার সমাধান হবে না; দরকার টেকসই সংস্কার ও জবাবদিহিতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন সিদ্দিকী বলেন, ‘এতসংখ্যক ব্যাংকের পেছনে ৪০ বিলিয়ন অর্থ যদি ব্যয় করা হয়, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যে ভূমিকাটা থাকার কথা, সেটা আবারও নাজুক অবস্থায় পড়ে যেতে পারে।’

পলিসি একচেঞ্জ চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আমার মনে হয় সরকারি খাতে হয়তো ইমিডিয়েটলি সব ব্যাংক বেসরকারীকরণ করা উচিত না বা সম্ভব না, কিন্তু এতগুলো ব্যাংক দরকার আছে নাকি সরকারি খাতে—সেটা চিন্তা করা যেতে পারে। তো সব মিলিয়ে আমার মনে হয় ব্যাংকিং খাতে ব্যাংক নাম্বারটাকে আরও ন্যাশনালাইজ করে নিয়ে আসা উচিত।’

অর্থনীতিবিদদের এই উদ্বেগের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলছেন, শুধু ঋণ গ্রহণ নয়, আর্থিক খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘ব্যাংক খাতকে আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার করছি। আইনগুলো পাশ হচ্ছে। তার সঙ্গে সঙ্গে আমরা যেটা করছি, সেটি হচ্ছে যে ব্যক্তিখাতে যাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ে। কোনো দেশেরই ৫ শতাংশ কখনোই একটা লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে না। তো আমরা আশা করছি যে ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহ অনেক বাড়বে।’

তবে, আন্তর্জাতিক সহায়তার সঠিক ব্যবহার আর ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে ৪০ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থায়ন সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে যে সুফল বয়ে আনবে না, তা অনেকটাই স্পষ্ট৷


অন্যান্য সংবাদ