শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয়তা, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে সম্মান করতে হবে: প্রধান বিচারপতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার বিএনপির জয়ী প্রার্থীকে মিষ্টিমুখ করালেন জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন প্রত্যাখ্যান, শনিবার বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য ২০২৯ সরকারি বাসার ভাড়াটে-সাবলেটগ্রহীদের সরানোর নির্দেশ তাহসিফের মৃত্যু: বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিলো পিবিআই জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি কমলো ১৬৩৩ টাকা বাজারে উঠছে শীতের সবজি, দামে নিয়ে বিপাকে ক্রেতারা সৌদিতে কারখানায় আগুন: শনিবার দেশে পৌঁছাবে ৫ যুবকের মরদেহ হ্যাটট্রিকে ক্যারিয়ারের ৯৮৫ গোল পূরণ করলেন রোনালদো ৫ নতুন মুখ নিয়ে ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণা কবে ফিরছেন মাঠে, অবশেষে জানালেন মার্তিনেজ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ছাড়াল ১১৫ ডলার

‘এক্স-মেন’ ও ‘স্টার ট্রেক’ তারকা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক / ২ জন দেখেছেন
আপডেট : October 30, 2026
‘এক্স-মেন’ ও ‘স্টার ট্রেক’ তারকা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন

হলিউডের ব্যাপক জনপ্রিয় সিনেমা সিরিজ ‘এক্স-মেন’র প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার বা বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পনানির্ভর ‘স্টার ট্রেক’র ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড―দুই চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছিলেন অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় মঞ্চ, সিনেমা ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা এই ব্রিটিশ অভিনেতা মারা গেছেন।

গত ২৮ অক্টোবর মৃত্যু হয়েছে এ হলিউড তারকার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। আর এ তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন অভিনেতার মুখপাত্র কেলি বুশ নোভাক। তিনি জানান―অ্যালঝেইমার রোগ ও লিউই বডি ডিমেনশিয়ার সঙ্গে জীবনের কিছু সময় বেদনাদায়ক সংগ্রামের পর লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজ বাড়িতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

দ্য হলিউড রিপোর্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিনেতার মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিবার ও বন্ধুদের উষ্ণ ভালোবাসায় ঘেরা অবস্থায় সরাসরি গান, প্রার্থনা, অশ্রু-হাসি এবং গভীর আবেগের মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। আর এমন আবেগ, আমাদের প্রতি সারাজীবনের ভালোবাসার বিনিময়ে শুধু তিনিই সঞ্চার করতে পারেন। তার মুখের সেই শান্তভাব ও আত্মপ্রকৃতি আমরা চিরকাল মনে রাখব। যা তার অক্ষয় মার্জিত রূপের এক চিরন্তন স্মারক।

১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে ইংল্যান্ডে ধ্রুপদী থিয়েটারে কয়েক দশকের কাজের অভিজ্ঞতা থাকার পরও যখন তার হাতে ইউএসএস এন্টারপ্রাইজের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে একজন অপরিচিত মুখ ছিলেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট।

‘স্টার ট্রেড: দ্য নেক্সট জেনারেশন’র প্রযোজক রবার্ট জাস্টম্যান ইউসিএলএ’র একটি বক্তৃতায় প্যাট্রিক স্টুয়ার্টকে দেখতে পান এবং তাকে তার নিজস্ব মার্জিত ও আভিজাত্যপূর্ণ ভঙ্গিতে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের একটি আবৃত্তি করতে শোনেন। ‘স্টার ট্রেড’র নির্মাতা জিন রোডেনবেরির ইচ্ছা না থাকার পরও রবার্ট জাস্টম্যান প্যাট্রিক স্টুয়ার্টকে অডিশনের জন্য ডাকেন। নির্মাতা কখনো ভাবতেই পারেননি, একজন চুলহীন ব্রিটিশ ব্যক্তি নতুন সিরিজটির প্রধান মুখ হতে পারে। তবে বিতর্কিত কাস্টিং প্রক্রিয়ার পর অভিনেতা ঠিকই খুঁতখুঁতে স্বভাবের নির্মাতার মন জয় করেন এবং ক্যাপ্টেন জিন-লুক পিকার্ড চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসেও কিছু সেরা পর্বে ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯০ সালের ভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘ইয়েস্টারডে’র এন্টারপ্রাইজ’ এবং ১৯৯২ সালের ‘দ্য ইনার লাইট’, এতে অল্প সময়ের মধ্যেই পিকার্ডের গোটা জীবনযাপনের গল্প উপস্থাপন করা হয়েছিল।

প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট এবং তার আমেরিকান অভিনেতাদের দলটি টেলিভিশনের ইতিহাসে অন্যতম সুসংগঠিত ও ঘনিষ্ঠ দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। যদিও শুরুর দিকে শুটিংয়ের ১৪ ঘণ্টার দীর্ঘ কাজের ফাঁকে হালকা রসিকতা মেনে নিতে বেশ কষ্ট হতো তার। ২০১৩ সালে এ ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, তারাই আমাকে শিখিয়েছে, ভালো কাজের পাশাপাশি আনন্দও করা যায়। এর আগ পর্যন্ত আমি মনে করতাম, দুটো বিষয় একদমই আলাদা।

১৯৯৪ সালে সাতটি সিজন শেষে ‘নেক্সট জেনারেশন’ শেষ হয়। ড্র্রামা সিরিজ বিভাগে একটি ইমি মনোনয়ন পাওয়ার পাশাপাশি সিরিজটি চারটি সিনেমার জন্ম দেয়; শ্যাটনারের সঙ্গে যৌথ অভিনীত ‘স্টার ট্রেড: জেনারেশনস’ (১৯৯৪), ‘স্টার ট্রেড: ফার্স্ট কন্টাক্ট’ (১৯৯৬), ‘স্টার ট্রেড: ইনসারেকশন’ (১৯৯৮) ও ‘স্টার ট্রেড: নেমেসিস’ (২০০২)। শেষ সিনেমায় প্যাট্রিক স্টুয়ার্টকে পিকার্ডের এক কম বয়সী ক্লোন হিসেবে অভিনয় করা তৎকালীন অখ্যাত টম হার্ডির মুখোমুখি হতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মিরফিল্ডে আলফ্রেড ও গ্ল্যাডিস স্টুয়ার্টের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। তার বাবা একজন অর্ধ-দক্ষ শ্রমিক ছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক হিসেবে ডানকার্ক থেকে মুক্ত হওয়া শেষ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি অতিরিক্ত মদ্যপায়ী ছিলেন এবং স্ত্রীর ওপর শারীরিক অত্যাচার করলেও কখনো তিন ছেলের ওপর তা করতেন না। কয়েক দশক পর প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট জানতে পারেন, তার বাবার এমন হিংসাত্মক আচরণের কারণ ছিল অনিরূপিত ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার।’

প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট পরিবারের সবার ছোট সন্তান হলেও বাড়িতে ভীতিগ্রস্ত থাকতেন এবং বাবার অত্যাচার থেকে মাকে রক্ষা করার জন্য প্রায়ই মাঝে গিয়ে দাঁড়াতেন। এ পরিস্থিতিতে বড় হওয়ার জন্যই জীবনের পরবর্তীতে সাবেক সৈনিক এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন।

ব্রিটিশ সিনেমা ও টেলিভিশনে নানা কাজের পর জন বোরম্যানের কিং আর্থার সংক্রান্ত সিনেমা ‘এক্সক্যালিবার’ (১৯৮১)-এর মাধ্যমে হলিউডে ডেবিউ করেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। তারপর ডেভিড লিঞ্চের ক্লাসিক কল্পবিজ্ঞান সিনেমা ‘ডিউন’ (১৯৮৪)-এ গুরনি হ্যালেক চরিত্রে অভিনয় করেন এ তারকা।


অন্যান্য সংবাদ