বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নক আউট পর্বে পর্তুগাল ও ফ্রান্স

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : জুন ২৪, ২০২১
পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নক আউট পর্বে পর্তুগাল ও ফ্রান্স

ক্রিস্টিয়ানো রোনল্ডোর পেনাল্টির দুই গোলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সাথে গ্রুপ-এফ‘র শেষ ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপের নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল।
সর্বোচ্চ পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ১৬‘তে গিয়েছে ফ্রান্স। হাঙ্গেরির সাথে মিউনিখে আরেক ম্যাচে নাটকীয় ভাবে ২-২ গোলে ড্র করে এই গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নক আউট পর্বের টিকিট পেয়েছে জার্মানী। গ্রুপ পর্বের সেরা তিন নম্বর দল হিসেবে টানা দ্বিতীয় আসরে পর্তুগাল পরের রাউন্ডে উঠেছে।
রোববার সেভিয়াতে নক আউট রাউন্ডে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল বেলজিয়ামের মোকাবেলা করবে পর্তুগাল। আর শেষ ১৬‘ লড়াইয়ে সোমবার বুখারেস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।
বুদাপেস্টের পুসকাস এরিনাতে ম্যাচের ৩০ মিনিটে রোনাল্ডোর স্পট কিক থেকে এগিয়ে যায় পর্তুগীজরা। দুই অর্ধে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা করিম বেনজেমার দুই গোলে ফ্রান্স ম্যাচে ফিরে আসে। কিন্তু ৬০ মিনিটে আবারো পর্তুগীজদের ত্রাতা হিসেবে দেখা দেন রোনাল্ডো। পেনাল্টি স্পট থেকে তার দ্বিতীয় গোলে পর্তুগালের মূল্যবান এক পয়েন্ট যোগ হয়। এই ড্রয়ে তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে জার্মানীর সাথে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থান লাভ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ছয় গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল ছাড়াও সেরা চারটি তৃতীয় স্থানে থাকা দল শেষ ১৬‘তে খেলার সুযোগ পাবে, সেই সুযোগেই পর্তুগালরা নক আউট পর্বে উঠেছে।
জুভেন্টাস তারকা ৩৬ বছর বয়সী রোনাল্ডো এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে পাঁচ গোল করলেন। এর মাধ্যমে তিনি ইউরোতে গোলসংখ্যা ১৪‘তে বাড়িয়ে নিলেন, একইসাথে ইরানের স্ট্রাইকার আলী দাইয়ের করা ১০৯ আন্তর্জাতিক গোলের বিশ্বরেকর্ডও স্পর্শ করেছেন। পর্তুগালের জার্সি গায়ে ১৭৮তম ম্যাচে রোনাল্ডো এই কৃতিত্ব দেখালেন।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিলেন ফরাসী তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু পর্তুগীজ গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিও ২২ বছর বয়সী এই পিএসজির তারকার ইউরোর গোল পেতে আরো কিছুটা অপেক্ষা রাখেন । এরপর অবশ্য এগিয়ে যায় পর্তুগালই। ৩০ মিনিটে ডি বক্সের ভিতর একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডানিলো পেরেইরার মুখে আঘাত করে বসে ফরাসী গোলরক্ষক হুগো লোরিস। আঘাত পেয়ে পর্তুগালের মিডফিল্ডারকে মাঠের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। লোরিসকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে রোনাল্ডো টুর্নামেন্টে চতুর্থ গোল পূরণ করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে একটি বিতর্কিত পেনাল্টিতে ম্যাচে সমতা ফেরায় ফ্রান্স। এমবাপ্পে ও নেলসন সেমেডোর মধ্যে একটি বল ধরা নিয়ে সংঘর্ষে রেফারি এন্টোনিও মাতেও লাহোজ ফ্রান্সকে পেনাল্টি উপহার দেয়। ভিএআর প্রযুক্তি দীর্ঘ সময় পর্যালোনা করার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্তে অটল থাকে। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে পর্তুগালের খেলোয়াড়রা দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। শেষ তিনটি পেনাল্টি মিস করা বেনজেমা এবার আর কোন ভুল করেননি। ২০১৫ সালের অক্টোবরের পর ফ্রান্সের জার্সি গায়ে এটাই তার প্রথম গোল। সাড়ে পাঁচ বছর পর আবারো জাতীয় দলে ডাক পাবার প্রতিদান বেনজেমা এবারের আসরে ঠিকই দিয়ে দিয়েছেন। ক্যারিয়ারে নবম ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপে ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তারকার এটাই প্রথম গোল।
মাথায় আঘাত পাওয়া ডানিলো স্থানে বিরতির পর মাঠে নামেন স্পোর্টিং লিসবনের মিডফিল্ডার হুয়াও পলিনহা। বিরতির পরপরই পল পগবার দারুন এক পাস থেকে বেনজেমা ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তুললেও ভিএআর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফ্রান্সকে গোল উপহার দেয়। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড পাওয়া লুকাস হার্নান্দেজের পরিবর্তে বিরতির ছয় মিনিট পর ফরাসি দলে খেলতে নামেন লুকাস ডিগনে। এর মাধ্যমে বাকি সময়টা কোন নির্ভরযোগ্য লেফট-ব্যাক ছাড়াই মাঠে খেলেছে ফ্রান্স। কিন্তু ৬০ মিনিটে রোনাল্ডোর ক্রস থেকে রাইট-ব্যাক জুলেস কুন্ডের হ্যান্ডবলে পর্তুগালের ভাগ্য খুলে যায়। জুভেন্টাস সুপারস্টার এবারও লোরিসকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেন।
গ্রুপের আরেক ম্যাচে হাঙ্গেরি যদি জার্মানীকে পরাজিত করতো তবে ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হলে পর্তুগালকেও বিদায় নিতে হতো। এসব চিন্তা মাথায় রেখেই ম্যাচে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল ফার্নান্দো সান্তোসের শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে প্যাট্রিসিও একই আক্রমনে দুটি দুর্দান্ত সেভ করে পর্তুগালকে রক্ষা করেছেন। পগবার দুরপাল্লা শট একসাথে রক্ষা করে ফিরতি বলে আঁতোয়া গ্রীজম্যানকেও সফল হতে দেননি উল্ফসের এই গোলরক্ষক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ