সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

গাইতে গাইতে কে কের মৃত্যু

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : জুন ১, ২০২২

ভিড়ে ঠাসা নজরুল মঞ্চ। প্রেক্ষাগৃহে নানা রকমের আলোর ঝলকানি। মঞ্চে গাইছেন বলিউডের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথ ওরফে কে কে। ‘হাম রাহে ইয়া না রাহে ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পাল (আমি থাকি বা না থাকি মনে পড়বে এ সময়) গানের মাঝে বার বার রুমালে মুখ-কপালের ঘাম মুছছেন শিল্পী। মাথাতেও ওই রুমাল বোলাচ্ছেন। একাধিক বার ছোট বোতলের পানি দিয়ে গলা ভিজিয়ে নিচ্ছিলেন।

মঙ্গলবার (৩১ মে) কলকাতার নজরুল মঞ্চের বলিউডের তারকা গায়ক কৃষ্ণকুমার কুনাথ-এর লাইভ অনুষ্ঠানের একাধিক ভিডিওয় ধরা পড়েছে এমন দৃশ্য। তারপর হোটেলে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সেখান থেকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

জনপ্রিয় গায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ।

এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারফর্ম করার সময়ই দরদর করে ঘামছিলেন কে কে। বেশি খারাপ লাগায় এক পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন ব্যাক স্টেজেও। সহ্য হচ্ছিল না স্টেজে ফেলা উজ্জ্বল আলোও।

পুলিশ জানিয়েছে, কে কে’র মাথায় এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৃত্যুর আসল কারণ খতিয়ে দেখার জন্য বুধবার এসএসকেএম হাসপাতালে তার মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে।

এ ছাড়া কে কে যে হোটেলে উঠেছিলেন, ধর্মতলা চত্বরের ওই পাঁচ তারকা হোটেলের কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে নজরুল মঞ্চে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকদেরও। যে হোটেলে তিনি ছিলেন তার শিফট ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজও।

অনুষ্ঠানে থাকা কয়েকজন শ্রোতা জানান, মঞ্চে দরদর করে ঘামছিলেন শিল্পী। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেকে ছিলেন অত্যন্ত চনমনে। দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মঞ্চের এ পাশ থেকে ও পাশ। কিন্তু বার বার চলে যাচ্ছিলেন মঞ্চের পিছনের অংশে নিচু টেবিলে রাখা রুমাল ও পানির বোতলের দিকে। মুখ-মাথা মুছে গলায় অল্প পানি ঢেলে আবার ধরছিলেন পরের গান।
বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টেবিল থেকে তুলে নেওয়া রুমালে মুখ মুছে, মাথার চুলে আঙুল চালিয়ে গান শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। পাশ থেকে মঞ্চে থাকা এক জন হিন্দিতে বলে উঠলেন, ‘ভীষণ গরম।’ শিল্পী তাঁর দিকে তাকিয়ে হেসে সম্মতি দিলেন যেন। তার পর এক জনকে হাতের ইশারায় মঞ্চের উপরের আলোগুলো দেখিয়ে বললেন, ‘নিভিয়ে দাও।’ তার পর আবারও গান শুরু। নজরুল মঞ্চে উপস্থিত দর্শক তখন কেকে-র গানে মাতোয়ারা।

কেকে-র অনুষ্ঠানের আগে ওই মঞ্চেই গান গেয়েছেন শুভলক্ষ্মী দে। তিনি জানিয়েছেন, কেকে ঢোকার পর তিনি গ্রিন রুমে গিয়ে শিল্পীর সঙ্গে দেখা করেন। কেকে তাঁর সঙ্গে ভাল করে কথাও বলেন। শারীরিক ভাবে তাঁকে কোনও ভাবেই সেই সময় অসুস্থ বলে মনে হয়নি শুভলক্ষ্মীর।

তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে এসে গাড়িতেই কিছু ক্ষণ বসে চিলেন উনি। এত ভিড় যে ঢুকতে পারছিলেন না। তার পর তাঁকে এনে গ্রিনরুমে বসানো হয়। আমি গিয়ে দেখা করি। কথা হয়। অনুষ্ঠানের সময় ভীষণই এনার্জেটিক লাগছিল তাকে। ভাবতেই পারিনি এমনটা হবে!’

শেষ গান গেয়ে কেকে যখন মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তখনও দেখা গিয়েছে, কপাল বেয়ে ঘাম গড়াচ্ছে শিল্পীর। শরীরও ঘামে ভেজা। এর পর সেখান থেকে মধ্য কলকাতার হোটেলে ফেরেন তিনি। অসুস্থ হয়ে হোটেলে পড়ে যান বলেও খবর। তার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই তাঁকে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কৃষ্ণকুমার কুনাথ শ্রোতাদের কাছে কে কে নামে পরিচিত। এই গায়কের জন্ম দিল্লিতে ১৯৬৮ সালে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলেগুসহ নানা ভাষায় গান গাইতেন। ১৯৯৯ সালে তার গানের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ হলেও তার আগেই তিনি বলিউড সিনেমায় গান গেয়ে সুনাম কুড়ান।

কে কে-এর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- হাম দিল দে চুকে সনমের ‘তাড়াপ তাড়াপ, দেবদাসের ‘ডোলা রে’, ও লামহে সিনেমার ‘ক্যায়া মুঝে প্যায়ার হ্যায়’, ওম শান্তি ওম সিনেমার ‘আঁখোমে মে তেরি’, বাঁচনা এক হাসিনো সিনেমার ‘খুদা জানে’, আশিকী-২ সিনেমার ‘পিয়া আযে না’ ইত্যাদি। গানের জন্য পাঁচ বার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ