শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

কেন অধিনায়কত্ব ছাড়লেন কোহলি ?

স্পোর্টস ডেস্ক
আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

আকস্মিকভাবে বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা বিরাট কোহলির? সিদ্ধান্তটা এখনই জানানোর কারণ কি ছিলো? এর নেপথ্যে শুধুই কি চাপ কমানো? ওয়ানডে আর টেস্টে নিজেকে আরো বেশি সময় দেয়ার প্রয়াস। প্রেস ট্রাস্ট অব ইডিয়া (পিটিআই) থেকে শুরু করে ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে ভিন্ন কথা। দেশটির শীর্ষ কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বুঝতে পেরেই সরে দাঁড়িয়েছেন এই প্রভাবশালী ক্রিকেটার।

বছর চারেক আগের কথা। অনেকটা হুট করেই ভারতের কোচের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন অনিল কুম্বলে। অথচ তার অধীনে ১৭ টেস্টে মাত্র এক হার ছিলো ভারতের। ২০১৭ সালের সেই সময়টায় মূলত বিরাট কোহলির সাথে দ্বন্দে জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি কুম্বলে। যা স্পষ্ট হয় অচিরেই। কোহলির পছন্দের কোচ রবি শাস্ত্রী ফের দায়িত্ম নেন টিম ইন্ডিয়ার।

মাঠ থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্যারিয়ার শেষ করতে না পারার পেছনেও হাত ছিলো বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের। শেষ পর্যন্ত অবসরের ঘোষণা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

ইতিহাস নাকি ফিরে ফিরে আসে। মাঠের মতো মাঠের বাইরে পাকা খেলোয়াড় কোহলি এবার নিজেই খেলার অনুষঙ্গ। বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তাই ইঙ্গিত করছে। প্রশ্ন উঠেছে কেন বিশ্বকাপের আগেই নিজের এমন মনোভাব জানানোর প্রয়োজন পড়লো?

অধিনায়কত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ওয়ানডে আর টেস্টে আরও বেশি মনোযোগি হতে চান। আরও ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের জন্য সময় চান। অথচ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ব্যাটসম্যান হিসেবে আলো ছড়াতে না পারলেও অধিনায়ক হিসেবে চলতি বছর শতভাগ সফল কোহলি। তাঁর অধীনে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে ভারত।

তবে কেন এই সিদ্ধান্ত? প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়ার মত প্রভাবশালী ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবী অনেক বেশি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছিলেন কোহলি। দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন সাদা বলের সহ অধিনায়ক রোহিত শর্মার সাথে। রোহিতকে সহ অধিনায়ক থেকে সরাতে নির্বাচক প্যানেলের দ্বারস্তও হয়েছিলেন তিনি।

কোহলির এমন মনোভাব খুব সন্তুষ্ট ছিলো না বোর্ড। অধিনায়কত্বের টানাপোড়েন নিয়ে গেল ৬ মাস ধরে বোর্ডের সাথে কথাও চলছিল কোহলির। জানিয়েছেন, খোদ বিসিসিআই সাধারণ সম্পাদক জয় শাহ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল ভালো না করলে বোর্ডই অধিনায়ক থেকে সরিয়ে দিতেন কোহলিকে। বুদ্ধিমান কোহলি তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। কোহলির সাথে মিশে আছে রবিশাস্ত্রীর ভাগ্যও। তাই কোচ হিসেবে সাবেক এ ভারতীয় অধিনায়কের ভবিষ্যত নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনায় অধিনায়ক হিসেবে অদূর ভবিষ্যতে দেখা যেতে পারে লোকেশ রাহুল, ঋষব পন্তদের মত ক্রিকেটারদের। তবে সাম্প্রতিক সাফল্য বিবেচনা আর অভিজ্ঞতা মাথায় রাখলে এই ফরম্যাটের নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে রোহিতকে। সেক্ষেত্রে এই মারকুটে ওপেনারের অধীনে কেমন করেন ক্রিকেটার কোহলি তাই এখন দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ