শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জনগনের কষ্ট লাঘবে কাজ করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দুলু ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু গায়ের জোরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিবাদী আমলে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল হেফাজতে ইসলাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ৩ মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহ শর্টকাটে টাকা উপার্জনের পথ খুঁজলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: মন্ত্রী বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার ৭ নভেম্বরের নেতৃত্বে ‘জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব’ থাকত না আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা করে লাভ হবে না: রিজভী ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নয়, একটি ভাইরাস : শফিকুর রহমান জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ ডিসেম্বর ঘিরে চারদিকে শঙ্কা, কী ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে? বিকল্প পথে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরও এক চালান নতুন তিন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ

অনলাইন ডেস্ক / ৪ জন দেখেছেন
আপডেট : November 6, 2026
সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ

শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কমেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে সবজির বাজারে স্বস্তি পুরোপুরি নেই। টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো বেশ চড়া।

অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ পণ্য। ফলে সবজি কিনতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ-মাংসের পেছনে ক্রেতাদের আগের মতোই বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শিম এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় যা গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, নতুন আলু ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৮০ টাকা ছিল, মুলা ৪০ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি বড় আকারের ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং ছোট আকারে বাঁধা কপি ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন শেওড়াপাড়া বাজারে সবজি বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।

আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এসব বাজারে পটল, ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, জলপাই ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং গাজর কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে পেঁপে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং আলু কেজিতে ৫ টাকা কমে ২৫ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বটবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনে পাতা ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২০০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সবজি কিনে স্বস্তি মিলছে নগরবাসীর। দুই-একটি বাদ দিয়ে সব ধরনের সবজি ৫০ টাকা কেজির কমে কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন তালতলা বাজারে বাজার করতে আসা সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শসা ও টমেটো ছাড়া মোটামুটি সব ধরনের সবজি ৫০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বছর ধরেই পেঁয়াজের দাম স্বস্তি দিয়েছে।

এসব বাজারে প্রতি আঁটি লাল শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, পালং শাক দুই আঁটি ৫০ টাকায় এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।

আরেক বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি পুরোপুরি বাজারে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে এসব সবজির দাম ৬০ টাকা।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

মাংসের বাজারেও দামের তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এসব বাজারে মুরগির এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়, হাঁসের ডিম এক ডজন ১৮০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সংস্থাটির ৫ নভেম্বরের খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে। অন্যদিকে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম অয়েল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।


অন্যান্য সংবাদ