বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডিসেম্বরে কিছু হলে সরকারের ব্যর্থতার কারণে হবে: নাহিদ ইসলাম অন্যায়, বিভাজন ও ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ইসরায়েলে অর্থ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের নবীনগরে ইউপি নির্বাচন ঈদের পর তৃতীয় ধাপে? পদ্মা ব্যারেজ, দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪০০ নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ৯ পুলিশসহ আহত ১১ শ্রমিক আন্দোলনে আ.লীগের সহিংসতার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খাঁন বিমানের সৌদির দাম্মামগামী ফ্লাইট শুরু ৭ নভেম্বর নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে নতুন চাপ, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় চার দিন গ্যাস থাকবে না—এমন খবর সত্য নয় —জানাল পেট্রোবাংলা ‘আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে, যদি প্রেক্ষাপট হয়’ শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি শপথ নিলেন মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান একটি দল আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে : ডিএনসিসি প্রশাসক

আওয়ামী লীগের দখলে থাকা খেলার মাঠ এখন বিএনপির লোকজনের নিয়ন্ত্রণে: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক / ৭ জন দেখেছেন
আপডেট : November 2, 2026
আওয়ামী লীগের দখলে থাকা খেলার মাঠ এখন বিএনপির লোকজনের নিয়ন্ত্রণে: নাহিদ ইসলাম

দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে যেসব খেলার মাঠ ও প্রতিষ্ঠান দলীয় লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখন সেগুলোর অনেক জায়গায় বিএনপির লোকজন প্রভাব বিস্তার করছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও এই সংকট রয়েছে। এ কারণেই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যতটুকু সুযোগ ছিল, ততটুকুর মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া, আইন পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

নাহিদ বলেন, রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ ও মতাদর্শ থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যখন একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকবেন, তখন তাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে পরিচালনা করা হলে তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে আবারও দলীয়করণ ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও স্বাধীন বিকল্প জায়গা তৈরি করা প্রয়োজন।

খেলার মাঠের সংকট নিয়ে নাহিদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গেলে শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে দাবিগুলো আসে, তার একটি হলো খেলার মাঠ। বর্তমান সময়ে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কিন্তু মাঠের অভাবে অনেক শিশু খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ তৈরির মতো জায়গা থাকলেও সেগুলো দখল ও দলীয় প্রভাবের কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে যেসব জায়গা দলটির লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সরকার পরিবর্তনের পর সেগুলোর অনেক জায়গায় বিএনপির লোকজন প্রভাব বিস্তার করছেন। এটি শুধু একটি দলের সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার করা জরুরি।

দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে খেলাধুলার ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দিয়ে নাহিদ বলেন, বিশেষ করে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বমঞ্চে দেশকে পরিচিত করার বড় একটি মাধ্যম। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ক্রিকেটসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলাগুলোতে আরও ভালো করার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিলে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করবে। ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

এ সময় ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স এনসিপির অঙ্গসংগঠন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। নাহিদ বলেন, এনসিপির সঙ্গে সংগঠনটির আদর্শিক ও নীতিগত সম্পর্ক রয়েছে, তবে এটি দলের অধীন কোনো সংগঠন নয়। রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন এবং অঙ্গসংগঠনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স নিজস্ব নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপি সংগঠনটির ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চায়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে যেসব নীতিগত প্রস্তাব ও পরামর্শ প্রয়োজন হবে, সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে সংগঠনটির নেতৃত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।

তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা জানিয়ে নাহিদ বলেন, তরুণদের মধ্যে ক্রীড়া নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি জাতি গঠনে উপযুক্ত করে তুলতে হবে। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


অন্যান্য সংবাদ