নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে নতুন চাপ, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্য
অভিজিত বনিক
দেশে একের পর এক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। এর মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়ে রান্নার খরচ, বিদ্যুতের দাম বাড়লে বাড়ে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাসিক ব্যয়। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ে পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ও উৎপাদন খাতে। ফলে শেষ পর্যন্ত এর চাপ গিয়ে পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। মাসের আয় দিয়ে বাড়িভাড়া, বাজার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটানোর পর সঞ্চয়ের সুযোগ প্রায় থাকছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন খরচ কমাচ্ছে। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটাও সীমিত করছেন।
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয় বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে পণ্যের বাজারদরে। ফলে শুধু গ্যাস, বিদ্যুৎ কিংবা তেলের বিলই নয়, পরোক্ষভাবে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয় একই হারে বাড়ছে না। ফলে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য হারিয়ে অনেক পরিবার ঋণ কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় জনস্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণে সাধারণ মানুষের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—জীবনযাত্রার ব্যয় যদি এভাবে বাড়তেই থাকে, তাহলে সীমিত আয়ের মানুষ সংসার চালাবেন কীভাবে? উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সুফল যদি সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি না আনে, তাহলে সেই উন্নয়নের বাস্তব মূল্যায়ন কোথায়?
জনগণের প্রত্যাশা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে এমন নীতিমালা গ্রহণ করা হোক, যাতে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সক্ষমতাও সুরক্ষিত থাকে।