রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সেন্টমার্টিন স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কিনবে সরকার ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আঘাত হানতে পারে কখন পতিত ফ্যাসিস্ট ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাস সংকটে আবারও যমুনা সার কারখানা বন্ধ জামালপুরে কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় ইমামের যাবজ্জীবন জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন মীর শাহে আলম ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধের পথে’ ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি স্থগিত হলো প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ১৫ প্রকল্পের অনুমোদন সরকার নিজেদের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে: জামায়াত আমির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপালের জামিন নামঞ্জুর যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে নিউ ইয়র্কের চার্চ

পতিত ফ্যাসিস্ট ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ জন দেখেছেন
আপডেট : October 25, 2026
পতিত ফ্যাসিস্ট ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, তবে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরাও শুনছি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসতে চান। তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে আমাদের প্রতিবেশী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং এ নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তির এ ধরনের অপপ্রয়াস প্রথম থেকেই চালু ছিল। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অনেক বছর পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসাহ-উদ্দীপনাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদযাপন সম্ভব হওয়াকে তিনি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। এ পরিবেশ নিশ্চিত করতে যারা কাজ করেছেন, তাদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, সাংবাদিক এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে পূজার সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

অতীতের দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত ১৫ থেকে ১৭ বছরে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো ঘটনা ঘটেছে। এবার সেই ধরনের পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও সবার সহযোগিতায় একই ধরনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।

এবারের পূজায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে, সে লক্ষ্যেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তিনি জানান, ডিজিটাল পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি মুহূর্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর ফলে কোনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুর্গাপূজার আয়োজন ও সরকারি সহায়তার তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৬ সালে দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ স্থাপিত হয়েছে। এ বছর সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরকারি অনুদানের বিষয়ে তিনি জানান, আগে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ সর্বোচ্চ চার কোটি টাকা ছিল। এ বছর প্রধানমন্ত্রী সেই বরাদ্দ এক কোটি টাকা বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি পূজার ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট পাঁচ দিনের ছুটির ব্যবস্থা এবং পূজা উপলক্ষে এক দিনের ছুটি বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপপ্রতি চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতি সরকারের আন্তরিকতা প্রকাশ পেয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সব ধর্মাবলম্বীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।


অন্যান্য সংবাদ