মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ওয়ার্নারের জোড়া শাস্তি ভারত সফর নিয়ে দিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় ঢাকা বিয়ের খবর কি সত্যি? মুখ খুললেন পূজা লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি VACANCY ANNOUNCEMENT যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ সিন্ধুর পানি ইস্যুতে প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হবে : খাজা আসিফ ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম দ. কোরিয়ার সাবেক মন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল চীন কানাডার কাছে উন্নত রাডার বিক্রির চুক্তি স্বাক্ষর অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

বন্ধ হয়ে গেছে যমুনা সার কারখানা

রিপোর্টারের নাম : / ১৮ জন দেখেছেন
আপডেট : July 29, 2022

জামালপুরের সরিষাবাড়ির তারাকান্দিতে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। তবে গ্যাস সঙ্কটের কারনে গত ২১ জুন বন্ধ হয়ে যায় যমুনা সার কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন। এর মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ফলে সার উৎপাদন ও সরবরাহে অনিশ্চয়তায় পড়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

অল্প গ্যাসে তুলনামূলক বেশি সার উৎপাদন করতে পারে এই কারখানাটি। অন্যদিকে গুনগত মান ভালো হওয়ায় এই সারের চাহিদাও অনেক বেশি।

এই সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলারকে সার সরবরাহ করা হয়। কারখানা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আসন্ন বোরো-আমন মৌসুমে কারখানা কমান্ডিং এ্যারিয়ায় কৃত্রিম সার সঙ্কটের পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছে সার ব্যবসায়ীরা।

সার ব্যবসায়ী ফারুক মাসুম তালুকদার বলেন, ‘এখন যদি কারখানা উৎপাদনে না যায় তাহলে আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকদের সার সরবরাহ করতে পারবে না কর্তৃপক্ষ। এতে করে ডিলাররাসহ কৃষকেরাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’

এছাড়াও কারখানা বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক-কর্মচারী ও পরিবহন চালক।

কারখানা এলাকার ট্রাক চালক ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের রিযিক এই কারখানার উপর নির্ভরশীল। এখন এই কারখানা বন্ধ থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। অনেকে কারখানা ছেড়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। সবাই তো আর কারখানা ছেড়ে চলে যেতে পারছে না। আমরা চাই এই কাখাানাটি দ্রত চালু হোক।’

তারাকান্দি ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মানিক জানান, ‘কারখানাকেন্দ্রিক ৪২০টি ট্রাক রয়েছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে ৮৪০ জন চালক ও চালকের সহযোগী। ট্রাক মালিকরাও রয়েছেন। এছাড়াও এই কারখানার সাথে হাজারো শ্রমিক জড়িত। কারখানা বন্ধ থাকায় এরা সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছে।’

সার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিবছর কোন না কোন অযুহাতে যমুনা সার কারখানা বন্ধ রেখে দেশকে সার আমদানি নির্ভর করে তুলতে চাচ্ছে একটি অসাধু চক্র ।

এসকল বিষয়ে জানতে যমুনা সার কারখানায় গেলে সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেননি কারখানার এমডি ইঞ্জি মোঃ জাকির হোসাইন। কারখানায় প্রবেশে সাংবাদিকদের জন্য জারি করা হয়েছে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা।

তবে মুঠোফোনে যমুনা সার কারখানার মহা-ব্যবস্থাপক (অপারেশন) আব্দুল হাকিম জানান, ‘যমুনা বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সকলেই। গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং এর কারণে বন্ধ রয়েছে উৎপাদন। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করা হলেই আবারো উৎপাদনে ফেরার আশা রয়েছে।’

গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিতাস গ্যাসের বাল্ক কাস্টমার ম্যানেজার খাদেম কায়সার মুঠোফোনে জানান, ‘সর্বত্র গ্যাস সংকটের কারণে দেখা দিয়েছে এমন পরিস্থিতি। সংকট সমাধানের পর সরকার চাইলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে যমুনা সার কারখানাকে। তখন যমুনা সার কারখানা আবার উৎপাদনে যেতে পারে।
১৭০০ মে.টন উৎপাদনক্ষম ইউরিয়া উৎপাদনকারী যমুনা সারকারখানায় প্রতিদিন ৪৫ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয় ।


অন্যান্য সংবাদ