মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডিসেম্বরে কিছু হলে সরকারের ব্যর্থতার কারণে হবে: নাহিদ ইসলাম অন্যায়, বিভাজন ও ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ইসরায়েলে অর্থ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের নবীনগরে ইউপি নির্বাচন ঈদের পর তৃতীয় ধাপে? পদ্মা ব্যারেজ, দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪০০ নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ৯ পুলিশসহ আহত ১১ শ্রমিক আন্দোলনে আ.লীগের সহিংসতার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খাঁন বিমানের সৌদির দাম্মামগামী ফ্লাইট শুরু ৭ নভেম্বর নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে নতুন চাপ, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় চার দিন গ্যাস থাকবে না—এমন খবর সত্য নয় —জানাল পেট্রোবাংলা ‘আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে, যদি প্রেক্ষাপট হয়’ শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি শপথ নিলেন মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান একটি দল আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে : ডিএনসিসি প্রশাসক

মিরপুরে আজও গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

ফয়সাল আরেফিন / ১৫ জন দেখেছেন
আপডেট : November 3, 2026

মিরপুরে আজও গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে উত্তাল রাজধানী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুরে আজও থামেনি তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই আবারও রাজপথে নামেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মিরপুর-১১ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।
প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা মিরপুর-১১ এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। কোথাও কোথাও পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে রাজধানীসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে উদ্বেগ বাড়ছে। মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির কারণে বহু পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত রাখতে হয়েছে।
শ্রমিকদের প্রধান দাবি, বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বাসাভাড়া, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি পর্যালোচনায় সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়ক অবরোধ বন্ধ এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এভাবে আন্দোলন ও উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন, রপ্তানি কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা—দুই বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সংঘাত ও দমন-পাল্টা দমনের পথে না গিয়ে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান জরুরি। অন্যথায় শ্রমিক অসন্তোষ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


অন্যান্য সংবাদ