বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

বুধবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে সব কিছু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : আগস্ট ৮, ২০২১

# বাড়তি নয় আগের ভাড়াই চলবে গণপরিবহন # কাল থেকেই মিলবে ট্রেনের টিকেট # আজ ঢাকায় গ্রেপ্তার ২৪১

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধ শেষে আগামী ১১ আগস্ট (বুধবার) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রায় সব কিছু খুলে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসন সংখ্যার সমান যাত্রী নিয়ে চলবে সব ধরনের গণপরিবহন। সড়কপথে স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক গাড়ি চলতে পারবে। খুলবে দোকান-শপিংমল এবং খাবারের দোকান। হোটেল-রেস্তোরাঁ অর্ধেক আসন খালি রেখে চলবে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। আগের বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতয় পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতায় নতুন করে ৮টি শর্ত দিয়ে ১১ আগস্ট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৮টি শর্তের মাধ্যমে মূলত সব কিছু খুলে দেয়া হলো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। তখন ২৩টি শর্ত দেয়া হয়। সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ গত ৫ আগস্ট রাত ১২টায় শেষ হয়। পরে কিছুটা শিথিলতা এনে বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১০ আগস্ট (মঙ্গলবার) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

৮ শর্তে যা আছে : সব সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন/যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সড়কপথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দফতর/সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে। শপিংমল/মার্কেট/দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা রাখা যাবে। সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা চালু থাকবে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। গণপরিবহন, বিভিন্ন দফতর, মার্কেট ও বাজারসহ যেকোন প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আগামী ১১ আগস্ট থেকে দেশে যত আসন তত যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে তাতে আর বর্ধিত ভাড়া থাকছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমান সংখ্যক আসনে যেহেতু যাত্রী থাকবে, সেহেতু পরিবহনের বাড়তি খরচও হচ্ছে না। সে কারণে পূর্বের ভাড়া বহাল থাকবে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম লঞ্চ। কর্তৃপক্ষ এখনও নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা বলছে, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলাচল করবে সেহেতু বর্ধিত ভাড়া বহাল থাকবে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভাড়া কমাতে হলে নতুন করে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গণপরিবহনে ভাড়ার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, যেহেতু যত আসন তত যাত্রী সেহেতু আর বর্ধিত ভাড়া থাকবে না। আগের ভাড়ায় পরিবহন চলাচল করবে।

 

এছাড়া রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, আমরা কখনই রেলে ভাড়া বাড়াইনি। অর্ধেক যাত্রী যখন পরিবহন করেছি তখনও পূর্বের ভাড়ায় মানুষ চলাচল করেছে। এখনও পুরোনো ভাড়াতেই রেল চলবে। তিনি আরও বলেন, আগে তো আমরা অর্ধেক টিকিট বিক্রি করে ট্রেন চলাতাম এখন ফুল টিকিট বিক্রি করে চালাবো। এতে মাস্ক ছাড়া কেউ ট্রেনে উঠতে পারবেন না। যদি কেউ এই আইন লঙ্ঘন করেন, তাকে রেল আইনে জরিমানা করা হবে। তিনি আরও বলেন, এবার শতভাগ টিকিট বিক্রি করা হবে। এতে অর্ধেক টিকিট অনলাইনে এবং অর্ধেক টিকিট কাউন্টার থাকবে। প্রাথমিক অবস্থায় ৩৮ জোড়া আন্তঃনগর ও ১৯ জোড়া কমিউটার ট্রেন চলবে।

আগামী ১১ই আগস্ট থেকে ট্রেনের শতভাগ টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। ১১ই আগস্ট থেকে আসন সংখ্যার সমান যাত্রী নিয়ে চলবে ট্রেন।

এদিকে কাল (সোমবার) সকাল থেকেই খুলছে কাউন্টার। শতভাগ টিকিটের ৫০% অনলাইন ও ৫০% কাউন্টারে বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার।

 

অপরদিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলার নির্দেশনা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে আমরা যে ভাড়া বাড়িয়েছি সেটিই বহাল থাকবে। আমরা এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে আছি। ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করতে হলে তো নতুন করে একটি বৈঠক বা মিটিং করতে হবে। সে জন্য বলবো বর্ধিত ভাড়া চলমান রয়েছে।

তবে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ বাস ও ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও লঞ্চে একেবারেই তা শূন্য। তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। সে জন্য পুরোনো ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা উচিত।

এর আগে ১০ আগস্টের পর সবকিছু ধাপে ধাপে খুলবে বলে জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, বিধিনিষেধ আগামী ১০ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। ১১ তারিখ থেকে যেটি চিন্তাভাবনা চলছে সেটি হলো- ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে শিথিল করা। আমাদের করোনা শনাক্তের হার একটু কমছে, কিন্তু মৃত্যুর হার ২০০ এর উপরে আছে। সে বিষয়ে কিন্তু অবশ্যই আমাদের নজর রাখতে হচ্ছে।

এদিকে লকডাউন অমান্য করে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরার অভিযোগে ২৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ২৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৮৪ জনকে ৩৭ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ৫৩৭টি গাড়িকে ১২ লাখ ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ