সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৭:০৪ অপরাহ্ন

বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭-৫১ ভাগ

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : আগস্ট ৫, ২০২২

প্রতিদিনই বাজারে বাড়ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম। শুধু খাদ্যপণ্যই নয়, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবহণসহ অন্যান্য সেবা খাতের খরচ। গত এক বছরে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত। এতে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি কষ্টে মধ্যবিত্তরাও। এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর তদারকির সঙ্গে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য রেশনিং কার্যক্রম চালুর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

চড়া সাবান, শ্যাম্পু, শুকনা খাবারের দামও। শুধু খাদ্যপণ্য নয়, যাতায়াতভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বৃষ্টি-বন্যার অজুহাতে ঊর্ধ্বমুখী রাজধানীর কাঁচাবাজারও। প্রায় সবধরনের সবজির দাম বেড়েছে। আর ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ঝাঁঝ বাড়িয়ে চলছে কাঁচামরিচ। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।

২০২১ সালের জুলাই মাসে সরু চাল প্রতি কেজি বিক্রি হতো ৬৫ টাকা দরে। যা এ বছরের জুলাই মাসে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। গত বছর এ সময়ে প্যাকেট আটার দাম ছিল ৩৬ টাকা কেজি, যা এখন ৫০ টাকা। ভোজ্যতেলের দাম তো প্রায় নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের। তবে বাজারে তেলের দাম এখন কিছুটা স্থিতিশীল। ২০২১ এর জুলাইয়ে সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়। এ বছরের জুলাই মাসে তা পৌঁছেছে ১৯০ টাকায়।

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে লাগাম নেই। পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালে ২-৫ ও এক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচে ৩০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে একই মরিচ প্রতি কেজি ২৫০-৩০০ টাকায় কিনতে দেখা গেছে। এক দিনের ব্যবধানে স্থলবন্দর হিলিতে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

দুদিন আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৭০ টাকায়। হঠাৎ করে কারণ ছাড়াই কাঁচা মরিচ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কয়েক কিলোমিটার ব্যবধানের বাজারগুলোতে ২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হতেও দেখা গেছে।

রাজধানী ঢাকার বাজারের মরিচ বিক্রেতাদের দাবি, দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। মরিচসহ সবজি উৎপাদনকারী অনেক নিচু এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন সবজিগাছের ক্ষতি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় মরিচের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে মরিচে দাম ঊর্ধ্বমুখী। অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাঁচা বাজার, হাতিরপুল, মহাখালী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়। মোহাম্মদপুরের সবজি ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, ‘তিন দিন আগে পাঁচ কেজির পাল্লা কিনেছিলাম ৮৫০ টাকা দিয়ে। গতকাল সকালে মরিচ কিনতে হয়েছে প্রতিপাল্লা ৯৫০ টাকায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই মরিচের পাল্লা বিক্রি হতে দেখা গেছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকায়। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।’

হাতিরপুলের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘পাইকারি বাজারে মরিচের দাম বাড়ার ফলে খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে। প্রতিপাল্লা মরিচ কেনা পড়ে ৯০০ টাকার ওপর। খুচরাপর্যায়ে আসতে আসতে খরচসহ প্রতি কেজি মরিচের দাম পড়ে ১৯৫ টাকা। ক্রেতাপর্যায়ে যেতে যেতে আরও ৫-১০ টাকা বাড়ে। সব খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায় বা তার একটু বেশিতে।’

মরিচ ছাড়াও কাঁচা বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজির কেজি অন্তত ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। কাঁকরোল, উস্তা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বরবটির মতো সবজি ক্রেতাদের ৫০-৭০ টাকা কেজিতে কিনতে দেখা গেছে। এসব সবজি গত সপ্তাহেও কেজিতে ৪৫-৫০ টাকার মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছেন বাজারে আসা ক্রেতারা।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী তানজিল উল হকের বাজারের ফর্দটা এখন আগের মতো নেই। পণ্য কেনার তালিকায় যেমন কাটছাঁট হয়েছে, তেমনি কমেছে কেনার পরিমাণও। অথচ দাম দিতে হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি।

তানজিলের মতো এমন অবস্থা এখন প্রায় সবারই। টিসিবির তথ্যমতে, গত এক বছরে সরু চালের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। আটার দাম বেড়েছে ৫১ ভাগ, ২৮ শতাংশ বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম।

গত সপ্তাহে কাঁকরোল ৫০, উস্তা ৭০-৭৫, বরবটি ৬০, কাঁচকলা ৩০, মিষ্টি কুমড়া ৫০, গাজর ১৪০, শালগম ১২০, লাউ প্রতিটি ৫০-৬০, বরবটি ৭০, পটোল ৬০, আলু ২৮-৩০, পেঁয়াজ ৪৫ ও টমেটো ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

আমিষের উৎস মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ১৫০-১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজার গত সপ্তাহের মতোই স্বাভাবিক আছে। সোনালি মুরগি বিক্রি করছি ২৭০ টাকা কেজি। ব্রয়লার বিক্রি করছি ১৬০ টাকা কেজি। দেশি মুরগি কেজিতে বিক্রি করছি ৫০০ টাকায়। পিছিয়ে নেই ডিমের দামও। ফার্মের ডিম গত বছর এ সময়ে ৩৪ টাকা ডজন হিসাবে বিক্রি হলেও এখন তা ৪২ টাকা ডজন। মসুর ডাল ছিল ৯০ টাকা কেজি। যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকা।

গরু ও খাসির মাংসতো সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। ২০২১ সালের জুলাই মাসে গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, যা এখন ৭০০ টাকা কেজি। আবার কোথাও কোথাও ৭৫০ টাকা।

বাজার করতে আসা গৃহিণী আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমাদের আর কিছু জিজ্ঞেস করার বাকি আছে? আপনারা লিখেও কি পরিবর্তন আনতে পেরেছেন? আমাদের স্বপ্নের দেশে এখন প্রতিদিন দুঃস্বপ্ন হানা দেয়। যে দ্রব্যের দাম একবার বাড়ে তা আর কমার ইতিহাস দেখিনি। এটাই আমাদের নিয়তি।’

টয়লেট্রিজ সামগ্রীর বাড়তি দামকে সঙ্গী করে চলা সাধারণ মানুষের কপালে নতুন যুক্ত হতে যাচ্ছে তেলের বাড়তি দাম। ব্যবসায়ীরা জানান, খোলা তেলের বাজার বন্ধ এবং ডলারের বাড়তি দামের প্রভাব আবারও পড়তে পারে সয়াবিন তেলে।

৫০ কেজির বস্তার সব ধরনের চালে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। খুচরাপর্যায়ে এসব চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা। মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭৫ টাকায়, বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৩, নাজিরশাইল ৭৪ থেকে ৮২ এবং পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

ভোগ্যপণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে অতি প্রয়োজনীয় খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। চিকিৎসা কিংবা অন্য কোনো বিপদ এলে চরমে পৌঁছে যাচ্ছে তাদের সংকট।

নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্সকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ ভোক্তাদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ