রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

বছরের প্রথম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : জুন ৫, ২০২২
বছরের প্রথম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা

করোনার কারণে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে কোনো ঋণ পরিশোধ না করে কিংবা সামান্য পরিশোধ করে খেলাপিমুক্ত থাকার সুযোগ ছিল। তারপরও লাগাম ছাড়া বেড়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ মাস শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

তিন মাস আগেও ২০২১ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। আর গত বছরের মার্চের তুলনায় খেলাপি বেড়েছে ১৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। এর আগে, ২০২১ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১৩ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। তিন মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে যা ১০ লাখ ৩ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা ছিল। মার্চে এসে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে যা ছিল ১৩ লাখ এক হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। তিন মাসে ঋণস্থিতি বেড়েছে ২৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মোট ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা খেলাপি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আলোচিত সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫৭ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৬৩ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৪ হাজার ১৫ কোটি টাকা। এ অঙ্ক তাদের বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ০১ শতাংশ। তারা বিতরণ করেছে মোট ৩৩ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলো অনেক ছাড় দিয়েছে। এখন ঋণ আদায়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি খেলাপি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও তৎপর হতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ফলে এতো ঋণ খেলাপি বাড়ছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও কঠোর হওয়া দরকার।

ব্যাংকাররা জানান, ২০২০ সাল থেকে দফায়-দফায় খেলাপিমুক্ত থাকার সুবিধা বাড়ানো হয়। এখন অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো গেলেও এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ঋণ শোধ করছেন না। ব্যাংকগুলো নানা উপায়ে চেষ্টা করেও তাদের থেকে টাকা আদায় করতে পারছে না। এই শ্রেণির ব্যবসায়ীর মধ্যে ধারণা- যে করেই হোক নতুন করে আরও সুবিধা দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ার কথা বলে এরই মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কেউ ঋণ পরিশোধ না করলেও খেলাপি না করার সময় চেয়েছে। যদিও ব্যাংকিং শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বেশ আগ থেকে ঢালাও সুবিধা না দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যাংকাররা। তবে ব্যাংকারদের দাবি উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংক একের পর এক ছাড় দিয়েছে।

২০২১ সালে ঋণের ১৫ শতাংশ পরিশোধ হলেও তা নিয়মিত দেখানো হয়। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কেউ এ হারে টাকা দিলেও ব্যাক ডেটেও নিয়মিত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে এক টাকা না দিলেও কেউ খেলাপি হয়নি।

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাব শুরুর পর ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রথমে এ সুবিধা দেওয়া হয়। পরে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে আবার সময় বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর করা হয়। এরপর ২০২১ সালের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ঋণ পরিশোধ না করে খেলাপিমুক্ত থাকার সুবিধা আর বাড়বে না। তবে ২৭ আগস্ট শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলার দিয়ে জানায়, একজন ঋণ গ্রহীতার যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা ডিসেম্বরের মধ্যে কেউ ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে তিনি আর খেলাপি হবেন না। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর এই নির্দেশনায় পরিবর্তন এনে বলা হয় ১৫ শতাংশ দিলেও তাকে খেলাপি করা যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ