সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:০৮ অপরাহ্ন

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসব না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : অক্টোবর ১৬, ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব। ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশি দেশ তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। কারণ আমার নিজের দেশের সম্পদ আমি অন্যের কাছে বিক্রি করার আগে আমার কথা ছিল আগে দেশের মানুষ তাদের চাহিদা পূরণ হবে, পঞ্চাশ বছরের মজুদ থাকবে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, তারপর যেটা অতিরিক্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া এই দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এ কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। কিন্তু দেশ বেচে তো আমি ক্ষমতায় আসব না, এটা হলো বাস্তব।

এ সময় খাদ্য উৎপাদন ও কৃষির আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা যখন মহামারি আকারে দেখা দেয় তখনই আমি আহ্বান জানিয়েছি যে আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। বিশ্বের অনেক দেশে এখন খাদ্যের অভাব। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষ অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয়, বাংলাদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে, আমরা যেন খাদ্যের অভাবে আর কখনো না ভুগী। উত্তরবঙ্গ আওয়ামী লীগ সরকার এলেই মঙ্গা মুক্ত হয়। মঙ্গা মুক্তই থাকবে। বাংলাদেশে কখনো যেন দুর্ভিক্ষ হতে না পারে।’

কৃষি জমি রক্ষার তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘কৃষি জমি যেন কোনো মতেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা উৎপাদন করব, উন্নয়ন আমরা করব। সে উন্নয়নটা আমাদের কৃষি জমি সংরক্ষণ করে করতে হবে।’

সারা বিশ্বে প্রচুর খাদ্য অপচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের অপচয়টা কমাতে হবে, অপচয় যেন না হয়। সারা বিশ্বে কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অপর দিকে কিন্তু প্রচুর অপচয় হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অপচয় যেন না হয় বরং যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটাকে আবার পুনবর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে। সেটার বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। উদ্বৃত্ত যে খাদ্য থাকবে বা আপনি খেতে বসেও যে খাবার বেশি থাকবে সেটাও কিভাবে পুনঃব্যবহার করা, অন্য চাহিদা পূরণ করা যায় কি না সেটাকেও গবেষণার মধ্যে রাখা দরকার।’

কৃষি সম্প্রসারণ ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য চাহিদা ইনশাল্লাহ আমরা পূরণ করে যাব। হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য দিয়েও তাদের চাহিদা আমরা পূরণ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

উৎপাদিত খাদ্যের মান ঠিক রাখার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাদ্য শুধু উৎপাদন না মানটা যেন ঠিক থাকে।’

বীজ উৎপাদনে বিভিন্ন গবেষণা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বীজ আমরা উৎপাদন করবো, আমরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না।… সরকারি থেকে উৎপাদন করবে, বীজ মান সম্পন্ন এবং যথাযথ সংরক্ষণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কৃষিতে সফলতার জন্য বাংলাদেশি কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমরা চাহিদার উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ধান উৎপাদনে তৃতীয়, শাকসবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ মাছ উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করেছি।

 

 

সূত্র : বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ