শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

চা শ্রমিকদের ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২

দেশের চা শ্রমিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে চা-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজারের পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে স্বাগত জানান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

পাত্রখোলা চা বাগানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, মৌলভীবাজার-আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নেছার আহমদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধরা।
তাদের আনন্দঘন এ মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করেছে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন।

চা-শ্রমিকদের দেওয়া স্বর্ণের চুড়ি পরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘চা-শ্রমিক ভাইয়েরা চার আনা, আট আনা করে জমিয়ে আমাকে এ উপহার দিয়েছেন। এতবড় সম্মান, এতবড় উপহার আমি আর কখনো পাইনি।’

প্রধানমন্ত্রী শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রামের চা-শ্রমিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা গণভবনে আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে উপহার (স্বর্ণের চুড়ি) নিয়ে এসেছিলেন। সেই উপহার এখনো আমি হাতে পরে বসে আছি। আমি কিন্তু ভুলিনি। আমার কাছে এটা হচ্ছে সব থেকে অমূল্য সম্পদ।’

চা শ্রমিকরা সবসময় নৌকা মার্কায় ভোট দেন বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চা শ্রমিকরা আমাদের দেশেরই নাগরিক। কিন্তু এক সময় তাদের নাগরিকত্ব ছিল না। ঘরবাড়ি ছিল না। যেহেতু চা শ্রমিকরা সবসময় নৌকা মার্কায় ভোট দেন, সেহেতু আমরা চেষ্টা করেছি আপনাদের সমস্যাগুলো দূর করতে।’

দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে টানা ২০ দিন কর্মবিরতি পালন করেন চা শ্রমিকরা। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ১৭০ টাকা মজুরিতে কাজে ফেরেন তারা।

দৈনিক মজুরি বাড়ানোর দাবিতে গত ৯ আগস্ট থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন দেশের ২৪১টি চা বাগানের সোয়া লাখ শ্রমিক। প্রথম চারদিন শ্রমিকরা প্রতিদিন দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর ১৩ আগস্ট থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেন তারা।

সিলেট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মজিবর রহমান ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের এলাকার চা শ্রমিকরা কথা বলার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। তাই সব প্রস্তুতি আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়। ২১টি স্পটে পুরো আয়োজন তুলে ধরা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ পিপিএম জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানকে ঘিরে সিলেটে লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠ ও আশপাশ এলাকায় গত দুদিন ধরে পুলিশ অবস্থান করছে। এলাকাটি কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

এর আগে গত শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা-বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে চা-বাগান শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নতুন দৈনিক মজুরি অনুযায়ী চা শ্রমিকদের অন্যান্য সুবিধা আনুপাতিক হারে বাড়বে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ