মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

কাল থেকে ১২ আগস্ট ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : আগস্ট ৬, ২০২১

আগামীকাল ৭ আগস্ট থেকে পরবর্তী পাঁচদিনে সারাদেশে ক্যাম্পেইন চালিয়ে ৩২ লাখ মানুষকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

আজ শুক্রবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাকক্ষে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭-৯ আগস্ট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন কার্যক্রম চলমান রাখা যাবে বলে জানায় অধিদপ্তর। এছাড়া এই তিনদিন প্রয়োজনে দুর্গম এলাকায় (হার্ড টু রিচ এরিয়া) স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা যেতে পারে বলেও জানানো হয়। বৃহস্পতিবার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের এমন পরিবর্তিত নির্দেশনা দেয় অধিদফতর।

অধিদপ্তরের পরিচালক ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যাপস্থানা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনাগুলো সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। পরিচালক (স্বাস্থ্য), করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য গঠিত-বিভাগীয় কমিটির সদস্য, সিটি করোপোরেশন কমিটির সদস্য সচিব, জেলা কমিটির সদস্য সচিব, উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা এবং সব পৌরসভার মেডিকেল অফিসারদের কাছে এটি পাঠানো হয়।

শনিবার থেকে (৭ আগস্ট) শুরু হতে যাওয়া টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার সম্প্রসারিত আকারে আগামীকাল দেশব্যাপী ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৭ আগস্ট ২৫ বছর ও তদুর্ধ্ব জনগোষ্ঠী; অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স্ক জনগোষ্ঠী, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে আমরা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্পইনের আওতায় সারা দেশে চার হাজার ৬০০টি ইউনিয়নে, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকারী এবং ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে একযোগে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হবে।’

‘আগামীকাল দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু হবে। ৮ ও ৯ আগস্ট ইউনিয়ন ও পৌরসভার বাদ পড়া ওয়ার্ডে এবং ৭ থেকে ৯ আগস্ট সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চলবে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৮ ও ৯ আগস্ট ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চালু থাকবে। ১০ থেকে ১২ অগস্ট জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীর ৫৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে, জানান খুরশীদ আলম।

টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ১৮ থেকে কেন আবার ২৫ বছর করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৮ বছর বয়সী অনেকের এনআইডি নেই। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, এই এনআইডি ছাড়া ১৮ বছর বয়সীদের টিকার আওতায় আনতে যাই, মাঠে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে সেটাকে আমরা সামাল দিতে পারবো না। সে জন্য অনেক আলোচনা করে আমরা ঠিক করেছি বয়সসীমা ২৫ বছর হবে।’

এখন পর্যন্ত এক কোটি ২৮ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন করেছে এক কোটি ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার। ঢাকায় যারা নিবন্ধন করছেন তারা ২০ থেকে ২৫ দিন পরে ভ্যাকসিনের এসএমএস পাচ্ছেন, কারণ ওই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পক্ষে একসঙ্গে এত মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব না। সরকারের হাতে এত টিকা নেই যে এই মানুষগুলোকে দিতে পারবেন। তাহলে কী এমন প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলো যে সারা দেশে এত বড় ক্যাম্পেইন চালু করছেন এবং যারা নিয়মিত নিবন্ধন করছেন তাদের কবে টিকার আওতায় আনতে পারবেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে ভ্যাকসিনের ডিপ্লোম্যাসি আছে। যে ভ্যাকসিন বেশি আকারে আমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে সিনোফার্ম। এই ভ্যাকসিন সিঙ্গেল ডোজ, সিঙ্গেল ভায়েল। এর আগে আমরা এনেছিলাম অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সেটা ছিল ১০টি ডোজের একটি ভায়েল। এটি বেশি পরিমাণে সংরক্ষণ করা যায়। ঈদের আগে আমাদের টিকা গ্রহণের পরিমাণ কম ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দেওয়ার পরে গত ১০ দিনে আমরা দেখলাম প্রায় ৩০ লাখ মানুষ টিকা গ্রহণ করেছে। এটাও একটা বড় বিষয়।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ