মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

কঠোর লকডাউন চলছে: ৯ম দিনে রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৫৮৫

কেএমআর
আপডেট : জুলাই ৯, ২০২১

# কারফিউ জারির পরামর্শ, রোববার বা সোমবার সিদ্ধান্ত

 

মহামারি করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ‘কঠোর লকডাউনের’ নবম দিনেও রাজধানীতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৮৫ জন। এদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন স্বত্ত্বেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া ১২৯ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সর্বমোট এক লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও জরিমানা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সড়ক সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী বিভিন্ন যাননবাহনকে করা জরিমানার পরিমাণ আট লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করায় সর্বমোট ৪১৪টি গাড়িকে এ জরিমানা করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম জানান, ‘লকডাউনের’ নবম দিনে ডিএমপির আটটি বিভাগে বিভিন্ন থানা পুলিশ একযোগে সরকারি বিধিনিষেধ মানাতে অভিযান চালায়। বিধিনিষেধ অমান্য করে বাইরে বের হওয়ার অভিযোগে সারা দিনে ৫৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১২৯ জনকে এক লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে দেশে কারফিউ বা ১৪৪ ধারা জারির পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল এনসিডিসি পরিচালক ও অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশে কঠোর লকডাউন চলছে কিন্তু মানুষের চলাফেরা বা জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে দেশের মানুষ কারফিউ বা ১৪৪ ধারার মতো কর্মসূচিগুলো ভয় পায় এবং প্রতিপালনের চেষ্টা করে।
এ পরিস্থিতিতে কারফিউ বা ১৪৪ ধারার মতো কর্মসূচি দিলে করোনা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।
এর আগে গত ১ জুলাই থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পক্ষ থেকে এবার বিধিনিষেধ ‘কঠোর’ই করার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করার কথা বলে পুলিশও। বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীও। এরপর ৫ জুলাই বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।
কিন্তু নানা অজুহাতে লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। কোনোভাবেই মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখা যাচ্ছে না। প্রস্তাবিত কারফিউ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, কারফিউ দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট সুপারিশ করা হবে দু’একদিনের মধ্যে। এরপর কারফিউ বা ১৪৪ ধারা জারির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। কেবল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেলেই রোববার বা সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ