বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

আগস্টে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা: নিয়ন্ত্রণে জরুরী বৈঠক আজ

কেএমআর
আপডেট : জুলাই ২৬, ২০২১

# চতুর্থ দিনে ঢাকায় গ্রেপ্তার ৫৬৬, জরিমানা সাড়ে ১১ লাখ # বিধিনিষেধে শিল্পকারখানা খুললে আইনানুগ ব্যবস্থা-

মহামারি করোনা পরিস্থিতিতি দিন-দিন অবনতির দিকেই যাচ্ছে। সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউন চলছে। কিন্তু শনাক্ত ও মৃত্যু কোনোটাই কমছে না বরং বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে করণীয় কী, তা ঠিক করতে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে গুরুত্বপূর্ণ এক সভায় বসছে সরকার।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে দুপুর দেড়টায় বড় মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।
চলমান ‘কঠোর লকডাউন’ ৫ অগাস্ট পর্যন্ত চালানোর ঘোষণা রয়েছে। সংক্রমণ কমাতে বিশেষজ্ঞরা লকডাউনের পক্ষে বললেও তা আবার মানুষকে জীবিকার সঙ্কটে ফেলছে, সেটাও সরকারকে ভাবতে হচ্ছে। এই দোটানার মধ্যে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে কি না- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তা মঙ্গলবারের সভায়ই ঠিক হবে। ‘বড়’ সভা বললেও এই সভায় কারা কারা থাকছেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এদিকে সংক্রমণ রোধে গত ১ জুলাই দেশে লকডাউন জারি করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কোরবানির ঈদের সময় নয় দিন তা শিথিল করা হয়েছিল। ঈদের ছুটির পরেই সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, অগাস্ট মাসে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
এদিকে চলমান দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থ দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৬৬ জন। আর ১৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ৪৪৩টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার টাকা। চার দিনে রাজধানীতে মোট গ্রেপ্তার হলেন এক হাজার ৯৩৯ জন। গতকাল সোমবার লকডাউনের দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে চতুর্থ দিনে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয় ডিএমপির ৮টি বিভাগ।
সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম।
তিনি বলেন, লকডাউনের চতুর্থ দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএমপির ৮টি বিভাগের রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা এলাকায় সরকারি নিয়ম অমান্য করে বাইরে বের হওয়ায় ৫৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লকডাউনে সড়কে যানবাহন নিয়ে বের হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ট্রাফিক বিভাগ ৪৪৩টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, সরকার করোনার সংক্রমণ রোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে চতুর্থ দিনেও রাজধানীজুড়ে সক্রিয় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীতে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অকারণে ও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হওয়ায় এবং লকডাউনেও প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় ১৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগের দিন অর্থাৎ কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে তৃতীয় দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেপ্তার হন ৫৮৭ জন। আর ২৩৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয় এক লাখ ৯৫০ টাকা। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ৫২১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয় ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
অপরদিকে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শিল্পকারখানা খোলার প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এই বিধিনিষেধ থাকবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত।

খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত মিল-কারখানা; কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন, সংরক্ষণ এবং ওষুধ শিল্পকারখানা বাদে সব শিল্পকারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস বিধিনিষেধে বন্ধ থাকার কথা। বিধিনিষেধের মধ্যেও অনেকে শিল্পকারখানা চালু রেখেছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ খুলে থাকলে তা পর্যবেক্ষণ করছি, কারা খুলছে? যদি খুলে থাকে, প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধের কোনো বিকল্প নেই। করোনা যেভাবে ছড়িয়ে গেছে, সে বিষয় নিয়ে ক্যাবিনেটে আলোচনা হয়েছে।
বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ার কথা আপনি বলেছিলেন, কিন্তু সেটি মাঠে দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, যেহেতু গার্মেন্টস ও রপ্তানিমুখী কলকারখানাগুলো বন্ধ রেখেছি, লাখ লাখ শ্রমিক আসা-যাওয়া করতো, সেগুলো কমেছে। এগুলো ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণ আছে, যে কারণে মানুষ বাইরে আসছে। অযৌক্তিক কারণে বের হলে কিন্তু আইনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল থেকে শুরু করে জরুরি সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষ বাধাহীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে। পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনে চিন্তা-ভাবনা এখন পর্যন্ত নেই বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য সংবাদ