বয়স ৩৯, তবু থামছেন না নোভাক জোকোভিচ। প্যারিস মাস্টার্সে প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে টুর্নামেন্টির ইতহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন সার্বিয়ান এই তারকা। মঙ্গলবার মোনাকোর ভ্যালেন্তিন ভাশেরোকে হারিয়ে টিকে রেখেছেন এটিপি ফাইনালসে খেলার আশাও।
২৭ বছর বয়সী ভাশেরোকে ৬-৭ (৫), ৭-৫, ৬-১ গেমে হারিয়েছেন ১০ নম্বর বাছাই জোকোভিচ। ম্যাচটি শেষ করতে তার সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। ৩৯ বছর ১৬৪ দিন বয়সে ম্যাচটি জিতেছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি বয়সে প্যারিস মাস্টার্সে জয়ের রেকর্ডটি এতদিন ছিল জিমি কনরের। ১৯৯১ সালে ৩৯ বছর ৫৬ দিন বয়সে জিতেছিলেন তিনি।
শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি জোকোভিচের। প্রথম সেটের টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও পরপর চার পয়েন্ট হারান তিনি। নেটের কাছে ফোরহ্যান্ড ভলি মিস করার পর ব্যাকহ্যান্ড রিটার্ন বাইরে পাঠিয়ে সেটটি খোয়ান সার্বিয়ান তারকা।
দ্বিতীয় সেটে কাঁধের সমস্যায় চিকিৎসা নিতে হয় জোকোভিচকে। পরে গোড়ালির সমস্যায় চিকিৎসা নেন ভাশেরোও। এরপর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন জোকোভিচ। দ্বিতীয় সেট ৭-৫ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। শেষ সেটে প্রতিপক্ষকে আর কোনো সুযোগ না দিয়ে জয় তুলে নেন ৬-১ ব্যবধানে।
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, ‘সত্যি বলতে, এমন ম্যাচই আশা করেছিলাম। ভাঙার সুযোগ খুব বেশি ছিল না। তার সার্ভ দারুণ, প্রথম ও দ্বিতীয়টা বেশ শক্তিশালী। প্রথম সেট ও দ্বিতীয় সেটের অর্ধেক সময় পর্যন্ত তার সার্ভ বুঝতে আমার বেশ সমস্যা হয়েছে।’
শেষ সেট নিয়ে তিনি বলেন, ‘তৃতীয় সেটটা ভালো খেলেছি, তবে শারীরিকভাবে খুব ক্লান্তিকর ছিল। অনেক লম্বা র্যালি হয়েছে। আমি এখনো লড়াইয়ে আছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেরা ছন্দ খুঁজে পাওয়াই লক্ষ্য।’
চলতি মৌসুমে ওঠানামার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে জোকোভিচকে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল ও উইম্বলডনের সেমিফাইনালে খেললেও ফ্রেঞ্চ ওপেনে তৃতীয় রাউন্ড এবং ইউএস ওপেনে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন। তবে গত মাসে চায়না ওপেন জিতে ক্যারিয়ারের ১০২তম শিরোপা ঘরে তুলেছেন।
প্যারিসে জয় পাওয়ায় এটিপি ফাইনালসে খেলার আশা এখনো বেঁচে আছে জোকোভিচের। তুরিনে ১৫ থেকে ২২ নভেম্বর হতে যাওয়া আট খেলোয়াড়ের এই আসরে জায়গা পেতে বর্তমানে এটিপি লাইভ রেসে ১১ নম্বরে আছেন তিনি। শেষ যোগ্যতার স্থানটি আপাতত দখলে রেখেছেন স্পেনের রাফায়েল জোডার।
চোটের কারণে আগের দুই আসরে খেলতে পারেননি জোকোভিচ। তবে এবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে তুরিনে ফিরতে চান তিনি। প্যারিসে তার পরের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার রিঙ্কি হিজিকাতা।