চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড গড়ে জয় তুলে নিল প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। ভিয়ারিয়ালকে তাদেরই মাঠে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। রাতের ওপর ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদকে তাদের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।
মঙ্গলবার রাতে এসতাদিও দে লা সেরামিকাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পিএসজি। ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগের একের পর এক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম ১৭ মিনিটেই চারবার জাল খুঁজে নেয় তারা। নবম মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে কাছ থেকে শট নিয়ে গোল করেন জোয়াও নেভেস।
এরপর গোলকিপারের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে আক্রমণ সাজায় পিএসজি। ১২তম মিনিটে দেজিরে দুয়ে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। পরের মিনিটেই আবারও রক্ষণভাগের ভুলে বল হারায় ভিয়ারিয়াল। এবার সেঁনি মায়ুলুর শটে ব্যবধান ৩-০ করে পিএসজি।
১৭তম মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন ফাবিয়ান রুইজ। বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এই গোলের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছে পিএসজি। ম্যাচের শুরু থেকে ১৬ মিনিট ২ সেকেন্ডে চার গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম সময়ে চার গোল করার রেকর্ডটি এখন তাদের দখলে। এর আগে ২০১১ সালে ২০ মিনিটে চার গোল করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেটিই এতদিন দ্রুততম চার গোল করার রেকর্ড ছিল।
বিরতির পরও থামেনি পিএসজির গোল উৎসব। দারুণ এক স্পর্শে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রুইজ। এরপর ১৭ বছর বয়সী ডেভিড বলি ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে শট নেন। ভিয়ারিয়ালের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল জালে জড়ালে ৬-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির।
আতলেতিকোর মাঠে বায়ার্নের জয়
রাতের আরেক ম্যাচে আতলেতিকোকে হারাতে বায়ার্নকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত। প্রথমার্ধে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও স্বাগতিকদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না জার্মান ক্লাবটি। ২২তম মিনিটে লেনার্ট কার্লের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। চার মিনিট পর কাছ থেকে হ্যারি কেইনের ভলিও চলে যায় পোস্টের বাইরে।
বিরতির পর ৫৪তম মিনিটে গোলের দেখা পায় বায়ার্ন। আতলেতিকোর বক্সের ভেতর রবিন লে নরম্যান্ডের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে জালে পাঠান কার্ল। পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে ওঠে আতলেতিকো। তবে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
৭৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনরাড লাইমার। বলের দখল ফিরে পেয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। কেইনের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন লাইমার। তাতেই নিশ্চিত হয় বায়ার্নের জয়।
আরও জিতল যারা
রাতের অন্য ম্যাচে ফেইনুর্দকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মিলান। ইয়ান বিসেকের দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যাওয়ার পর বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ান পিও এসপোসিতো। শেষ দিকে পিওতর জিয়েলিনস্কি করেন তৃতীয় গোল।
এ ছাড়া স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে লাস্ক। বোদো/গ্লিম্ট ও লিলের ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে। গালাতাসারাই ২-০ গোলে হারিয়েছে স্টুটগার্টকে। আলেক্সেই বাতরাকভ করেছেন জোড়া গোল। আর শাখতার দোনেৎস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পোর্টিং লিসবন।