শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু ‘প্রধানমন্ত্রী অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়’ জাতীয়তা, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে সম্মান করতে হবে: প্রধান বিচারপতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার বিএনপির জয়ী প্রার্থীকে মিষ্টিমুখ করালেন জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন প্রত্যাখ্যান, শনিবার বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য ২০২৯ সরকারি বাসার ভাড়াটে-সাবলেটগ্রহীদের সরানোর নির্দেশ তাহসিফের মৃত্যু: বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিলো পিবিআই জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি কমলো ১৬৩৩ টাকা বাজারে উঠছে শীতের সবজি, দামে নিয়ে বিপাকে ক্রেতারা সৌদিতে কারখানায় আগুন: শনিবার দেশে পৌঁছাবে ৫ যুবকের মরদেহ হ্যাটট্রিকে ক্যারিয়ারের ৯৮৫ গোল পূরণ করলেন রোনালদো ৫ নতুন মুখ নিয়ে ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণা

‘সৌদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হুথিকে গোপনে সাহায্য করছে আরব আমিরাত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২ জন দেখেছেন
আপডেট : October 30, 2026
‘সৌদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হুথিকে গোপনে সাহায্য করছে আরব আমিরাত’

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোপনে ইয়েমেনের ইরানপন্থি আনসারুল্লাহ (হুথি) গোষ্ঠীকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করছে। সম্প্রতি ড্রপ সাইট নিউজের প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম বৈরী হিসেবে পরিচিত এই দুই পক্ষের এ গোপন আঁতাতকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং একটি ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ সমীকরণ হিসেবে দেখছেন। সূত্রের বরাত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মদদপুষ্ট কিছু ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী সরাসরি হুথিদের কাছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অবস্থানের তথ্য (টার্গেটিং অ্যাসিস্ট্যান্স) পৌঁছে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, আবুধাবি সরাসরিও হুথিদের সঙ্গে একটি গোপন যোগাযোগ মাধ্যম (ব্যাকচ্যানেল) বজায় রাখছে, যার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। তবে এই সহযোগিতা কেবল ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ, সৌদি আরবের মূল ভূখণ্ডে হামলার জন্য কোনো তথ্য আমিরাত দিচ্ছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এই গোপন আঁতাতের বিষয়টি জানতে পেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সতর্ক করেছেন এবং এই ধরনের সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন। তবে সতর্কবার্তার পরও এই গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

আঁতাতের পেছনের কারণ কী:
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব একসঙ্গে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করলেও, ধীরে ধীরে দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থ আলাদা হয়ে যায়।

মুসলিম ব্রাদারহুড নিয়ে বিরোধ: ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম ব্রাদারহুডপন্থি রাজনৈতিক দল ‘ইসলাহ’কে দমন করা, যা সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের একটি বড় অংশ।

সৌদি আরব কর্তৃক বিতাড়ন: গত বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণ ইয়েমেনে আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এবং সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের পর, সৌদি বিমান হামলার মুখে আমিরাতকে অনেকটা অপমানজনকভাবে ইয়েমেন থেকে বিতাড়িত হতে হয়।

স্বার্থের মিল: সৌদি আরবের হাতে কোণঠাসা হওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে নিজের কৌশলগত প্রভাব ফিরে পেতে চাইছে। ফলে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে দুর্বল করতে হুথিদের অগ্রযাত্রাকে আমিরাত পরোক্ষভাবে সুবিধা দিচ্ছে।

হুথি ও আমিরাতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য:
হুথিদের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এ ধরনের কোনো সহযোগিতার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শত চাপ থাকার পরও তারা পুনরায় সৌদি জোটে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে, আমিরাত-সমর্থিত এসটিসির প্রতিনিধিও হুথিদের তথ্য দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি:
সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলে এক আকস্মিক সামরিক অভিযান চালিয়ে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে পরাজিত করেছে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই যুদ্ধ চলাকালীন সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আমিরাতের দেয়া উন্নত গোয়েন্দা তথ্যের কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে চলমান এই সহিংসতার কারণে গত ১ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)।


অন্যান্য সংবাদ