বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের এই সিরিজটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখারও বড় সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। তাই সিরিজের গুরুত্ব অনেক বেশি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো ফল করতে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বরং এটিকে অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখছেন তিনি।
সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানিয়েছেন, প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। আফগানিস্তান সিরিজের পর যারা দেশে ফিরেছিলেন, তারা আগেভাগেই অনুশীলন শুরু করেছেন। পাশাপাশি দেশের কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় প্রস্তুতিতেও সুবিধা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার মিরপুরে নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে আমি বলব আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। বিশেষ করে আফগানিস্তান সিরিজের পর যে খেলোয়াড়েরা দেশে চলে এসেছিল, তারা আগেভাগেই অনুশীলন শুরু করেছে। আমাদের কন্ডিশনও জানা। স্বাভাবিকভাবেই এখানে খেলার একটা ধারণা আছে। সব মিলিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে আমি খুশি।’
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজও এই সিরিজকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। জিম্বাবুয়েতে ক্যাম্প করে প্রস্তুতি সেরেছে তারা। বিপরীতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ছিল কিছুটা বিচ্ছিন্ন। কেউ খেলেছেন জিম্বাবুয়েতে, কেউ ছিলেন দেশের বাইরে, আবার কেউ দেশে অনুশীলন করেছেন। তবে এটিকে বড় সমস্যা মনে করছেন না অধিনায়ক। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে সিরিজ খেলার কারণে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে ক্রিকেটারদের।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা সিরিজেই চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে আমার মনে হয়, আমাদের খেলোয়াড়েরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। গত কয়েক বছর ধরে আমরা এভাবেই সিরিজের পর সিরিজ খেলছি। এই বিষয়গুলোর সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। আরও কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন আছে, তবে আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছি। কে কতটুকু সময় পেয়েছে, সে অনুযায়ী যার যেখানে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিল, নিতে পেরেছে।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ নিয়ে বাংলাদেশে এবার বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সাধারণত টেস্ট ক্রিকেটে এমন সমীকরণ নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। কিন্তু এবার ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের ফল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। অধিনায়কের কাছে বিষয়টি চাপের নয়, বরং অনুপ্রেরণার।
বর্তমানে ৫৫.৫৬ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, টেবিলের আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাইনালের সমীকরণ আগেই শেষ হয়ে গেছে। যদি ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করা যায়, তবে ৬৬.৬৭ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে তিন নম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার পাশে বসার সুযোগ রয়েছে।
শান্তর ভাষায়, ‘এটা আমার কাছে চাপ নয়, অনুপ্রেরণার। টেস্ট ক্রিকেটে এমন সমীকরণ সামনে আসছে, এটা অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা যখন প্রস্তুতি শুরু করেছি, তখন থেকেই চিন্তা করেছি গত কয়েকটি সিরিজে বা কয়েক বছর ধরে যেভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলছি, সেভাবেই খেলতে চাই। বাড়তি কিছু করতে চাই না। আমাদের যে প্রক্রিয়া আছে, সেটি অনুসরণ করতে চাই এবং যে কাজগুলো পারি, সেগুলো শতভাগ দিয়ে করতে চাই।’
সিরিজের আগে উইকেট কেমন হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বাংলাদেশের পেস ও স্পিন দুই বিভাগই ভালো অবস্থানে থাকায় প্রতিপক্ষকে বিবেচনায় রেখে কন্ডিশন সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অধিনায়ক। তবে এ বিষয়ে আগেভাগে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।
এদিকে অতীতে বড় উপলক্ষ সামনে এলে চাপ সামলাতে না পেরে ভেঙে পড়ার উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রবণতা কমেছে বলে মনে করেন অধিনায়ক। তার মতে, দূরের লক্ষ্য নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি সেশন এবং এমনকি প্রতিটি ঘণ্টাকে আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছে দল।
অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা অনেক দূরের কথা এখনই চিন্তা করছি না। ভালো ক্রিকেট খেলতে থাকলে অবশ্যই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। আমরা সব সময় ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে খেলি। প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি সেশন কীভাবে ভালো খেলা যায়, সেটিতেই মনোযোগ দিই। ড্রেসিংরুমেও এ ধরনের আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চাপের মুখে ভেঙে পড়ার বিষয়টি কিছুটা কমেছে। বলব না যে পুরোপুরি ভালো হয়ে গেছে, তবে আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে।’
শান্তর প্রত্যাশা, ‘ধারাবাহিকতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই-তিনটি টেস্টে আমরা যেভাবে খেলছিলাম, সেভাবে খেলতে পারিনি। এই জায়গায় উন্নতি দরকার। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হচ্ছে, পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। আপনারা আশা করতে পারেন, এই দল এখন যে অবস্থানে আছে, সেখান থেকে সামনে আরও ২০-৩০ শতাংশ উন্নতি করবে।’
ফাইনালের স্বপ্ন সামনে থাকলেও আপাতত বাংলাদেশের মনোযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। সমীকরণ নিয়ে বাড়তি হিসাব-নিকাশে না গিয়ে নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সাফল্য পেতে চান অধিনায়ক। এখন মাঠের পারফরম্যান্সে সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে পারে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।