রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৭২ কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ১৮, আহত অনেকে হঠাৎ ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর গণভোটের রায় কার্যকরসহ এনসিপির তিন দাবি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে: গোলাম পরওয়ার কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হামে থামছেই না মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১৮৯ জনের ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার পর দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ অনুদান দেয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজ কলেজ প্রাঙ্গণে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা পরিবেশ ও পানির দূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে কর্মক্ষম ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শারদীয় দুর্গোৎসবে এবার দুই দিন থাকছে সপ্তমী তিথি

অনলাইন ডেস্ক / ১৭ জন দেখেছেন
আপডেট : October 17, 2026
শারদীয় দুর্গোৎসবে এবার দুই দিন থাকছে সপ্তমী তিথি

শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ সপ্তমী। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও আমন্ত্রণের পর আজ থেকে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার মূল ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা।

বাংলা পঞ্জিকা ও তিথিচক্রের বিশেষ বিন্যাসের কারণে এ বছর সপ্তমী তিথিটি আজ শনি ও রোববার (১৭ ও ১৮ অক্টোবর) দুই দিন জুড়ে থাকবে। সকাল থেকে মণ্ডপ-মন্দিরে থাকছে নবপত্রিকা স্থাপন, আরাধনাসহ নানা আয়োজন।

ভক্তরাও দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন। শাস্ত্রমতে, সপ্তমীতে এবার দেবী দুর্গার আগমন হচ্ছে ঘোড়ায় চড়ে। এটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। আর দশমীতে দেবীর গমন হবে নৌকায়। যার অর্থ প্রবল বন্যা ও খরা দেখা দিতে পারে।

বিশুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ ও দেবী দর্শনে সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ঢল নেমেছে ভক্তদের। এর আগে মঙ্গলবার মহাষষ্ঠীতে দুর্গা দেবীর জাগরণ (বোধন), আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়।

সপ্তমীতে দেবীর কাছে ভক্তদের আকুল প্রার্থনা– শান্তি, সংহতি, শক্তি ও বিশ্ব কল্যাণের। তবে মহাসপ্তমীর গভীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচারের সীমানায় আবদ্ধ নয়, এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভের বিরুদ্ধে মানবীয় শুভবোধের জাগরণ, প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সাম্য ও সম্প্রীতির সমাজ গঠন।

মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় অঙ্গ ‘নবপত্রিকা’ বা সাধারণ ভাষায় ‘কলাবউ’ স্থাপন। কলাগাছের সঙ্গে কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ একত্রে বেঁধে স্নান করানোর পর নতুন শাড়িতে ভূষিত করে মণ্ডপে স্থাপন করা হয়।

নবপত্রিকার এই নয়টি উদ্ভিদ মূলত ব্রহ্মাণী, কালিকা, উমা থেকে শুরু করে দেবীর নয়টি মহাশক্তির প্রতীক। দুর্গাপূজার মূল কেন্দ্রে দেবী প্রতিমা থাকলেও মহাসপ্তমীতে সরাসরি উদ্ভিদকে পূজার অংশ বানিয়ে মূলত প্রকৃতির প্রতি মানুষের পরম কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করা হয়।

কারণ, এসব উদ্ভিদ মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, কৃষি ও বেঁচে থাকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তবে সচেতন মহলের মতে, কেবল আচার পালনে প্রকৃতি পূজা সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে গাছপালা সংরক্ষণ, জলাশয় দূষণমুক্ত রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হওয়াই নবপত্রিকার আসল বার্তা।

সপ্তমীর অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার হলো দেবীর ‘মহাস্নান’। দর্পণে দেবীমূর্তির প্রতিফলন ঘটিয়ে গঙ্গা জল, দুধ, মধু ও সুগন্ধি উপাচারে দেবীকে স্নান করানো হয়, যা বাহ্যিক ও আত্মিক শুদ্ধতার প্রতীক। এ স্নান মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্যের অধিকার হরণ, অহংকার, বৈষম্য বা হিংসা পুষে রেখে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নীতি-নৈতিকতার পূর্ণতা আসে না। সমাজে দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মাধ্যমেই ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রকৃত সামাজিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

পৌরাণিক কথনে মহিষাসুর বধের ঘটনাটি শুভ ও অশুভ শক্তির চিরন্তন সংঘাত নির্দেশ করে। দেবী দুর্গার দশ হাত ও দশ অস্ত্র মূলত অন্যায়কে প্রতিরোধ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শক্তিকে নির্দেশ করে। দেবীর পাশে থাকা লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ- যথাক্রমে সমৃদ্ধি, জ্ঞান, বীরত্ব ও বুদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করেন।

রূপক অর্থে জ্ঞান ছাড়া সমৃদ্ধি অন্ধ, সাহস ছাড়া ন্যায় অসম্ভব এবং বুদ্ধি ছাড়া শক্তির সঠিক ব্যবহার অসম্ভব।

বাঙালির ঘরোয়া সংস্কৃতিতে দেবীর এই আগমন শুধু ঈশ্বর আরাধনা নয়, বরং পিতৃগৃহে কন্যাসন্তানের ফিরে আসার গভীর পারিবারিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি, প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, ঢাকি, আলোকসজ্জাকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের শ্রমে এই উৎসব রূপ নেয় এক বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক মিলনমেলায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মহাসপ্তমীর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা। উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিটি নাগরিক কোনো ধরনের ভয় ছাড়া নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন।

ঢাকিদের ঢাকের বাদ্য একসময় থেমে যাবে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস, প্রকৃতির প্রতি যত্ন এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা যেন নাগরিক আচরণে সদা জাগ্রত থাকে, এটাই মহাসপ্তমীর মূল অঙ্গীকার।

আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের দুর্গোৎসব। এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


অন্যান্য সংবাদ