সাংবাদিক অভিজিত বনিকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসার হামলার চেষ্টা, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজ পাড়া, ডিসি বাংলো সংলগ্ন এলাকায় এক সাংবাদিকের বাসার গেইট ও জানালায় রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের জোরে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক অভিজিত বনিক রুবেল।
জিডি সূত্রে জানা যায়, অভিজিত বনিক রুবেল ‘কালের খবর’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক ও প্রকাশক। পাশাপাশি তিনি ‘জাগো হিন্দু পরিষদ’-এর সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত কারণে তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। তার বাসায় মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তান বসবাস করেন।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাসার গেইট ও জানালায় অত্যন্ত জোরে ধাক্কাধাক্কি করছেন। এতে বাসার ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পুনরায় বাসার গেইট ও জানালায় জোরে ধাক্কাধাক্কি করেন। ওই সময় অভিজিত বনিক রুবেল নিজেও বাসায় উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক ও জোরালো ধাক্কাধাক্কিতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ভীত হয়ে পড়েন।
কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে ঘটনাটি ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পূর্বপ্রস্তুতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অভিজিত বনিক রুবেল আরও উল্লেখ করেন, তিনি সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার পেশাগত বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে কেউ পরিকল্পিতভাবে তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জিডিতে তিনি জানান, বাসায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। তবে আশপাশের কোনো বাসা বা স্থাপনায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে ঘটনার সময়কার ফুটেজ পরীক্ষা করে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, হামলা, চুরি, লুটপাট, ভাঙচুর, অনধিকার প্রবেশ কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের জানমালের ক্ষতি হলে পূর্বের ঘটনাগুলোর সঙ্গে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় জিডি নং-২১১১, তারিখ ২৯ আগস্ট ২০২৬ এবং জিডি ট্র্যাকিং নং-6HGIM0 হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
জিডির পর বিষয়টি তদন্ত করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।