মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দূর্গা পূজায় এবার সরকারি ছুটি ৫ দিন! তৃতীয় দফা কমলো সোনার দাম  এবার ১০ এয়ারবাস কিনবে সরকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ভারতের রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ওয়ার্নারের জোড়া শাস্তি ভারত সফর নিয়ে দিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় ঢাকা বিয়ের খবর কি সত্যি? মুখ খুললেন পূজা লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি VACANCY ANNOUNCEMENT যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ সিন্ধুর পানি ইস্যুতে প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হবে : খাজা আসিফ আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম দ. কোরিয়ার সাবেক মন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড

সিসার দূষণে দেশে বছরে ৩০ হাজার নীরব মৃত্যু

রিপোর্টারের নাম : / ৩৫ জন দেখেছেন
আপডেট : May 24, 2022

ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সিসার দূষণ। নীরবে হাজারও মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। ২০১৯ সালে শুধু সিসার দূষণেই দেশে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পিলে চমকে ওঠার মতো এমন তথ্য উঠে এসেছে ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায়। আর তা বেশি ছড়াচ্ছে অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানায়।

বয়সটা মার্বেল-ডাংগুলি খেলার। তবে নাটাই-সুতো-ঘুড়ির সে উচ্ছ্বাসটা শিহাবের জীবনে আর ১০ জন শিশুর থেকে কম। মা-বাবার ধারণা ছিল, বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হবে। কিন্তু তা হয়নি। নীরব ঘাতক সিসা ধাতু বাসা বেঁধেছে শিহাবের শরীরে। একই অবস্থা তার বড় ভাই সাইমেরও।

শুধু শিহাব-সাইমই নয়, মাত্রাতিরিক্ত সিসার ঝুঁকিতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের রাজাবাড়ি গ্রাম। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি যতদিনে আমলে নিয়েছেন ততদিনে ঢের ক্ষতি হয়েছে। তাই গ্রামবাসী দুটি অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা বিদায় করছেন।

দেশের অনেক জায়গাতে এখনও নিয়মের তোয়াক্কা না করে সিসা ছড়ানোর এমন কর্মকাণ্ড চলছে। পিওর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, একটা গ্রামের ভেতরে বিষের মতো দুটি কারখানা ছিল। এখানে যে দূষণটা আছে তা সরানো খুবই জরুরি।

বাংলাদেশে সিসা দূষণের চিত্র কতটা ভয়াবহ তা সম্প্রতি ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় জানা গেল। যেখানে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে শুধু সিসার দূষণেই দেশে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্য রাসায়নিক দূষণ তো রয়েছেই। সব মিলে ওই বছর, পরিবেশ দূষণে ২ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসা দূষণ ঠেকাতে না পারলে সামনে কম বা সীমিত বুদ্ধিসম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অপেক্ষা করছে।

এশিয়া অঞ্চলের পিওর আর্থ প্রকল্পের পরিচালক গ্যাব্রিয়াল সানচেজ ইবারা বলেন, বিশ্বের ৮০ কোটি শিশু সিসার দূষণে ভুগছে। এর মধ্যে সাড়ে তিন কোটি বাংলাদেশের। সীসার কারণে সব বয়সীদের মারাত্মক শারীরিক জটিলতা হতে পারে। এর প্রভাবে শিশুদের পূর্ণ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাদের স্নায়বিক জটিলতা বাড়ে। আচরণগত সমস্যা তৈরি।

পরিবেশ অধিদ্প্তরের বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনার উপ-পরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সিসা যত ক্ষতিকারকই হোক না কেন এ নিয়ে জনসচেতনতার ঘাটতি আছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

দুর্ভাগ্যবশত সিসার বিষক্রিয়ার চিকিৎসা নেই। এমন বাস্তবতায় সিসার পরিবেশবান্ধব ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।


অন্যান্য সংবাদ