শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয়তা, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে সম্মান করতে হবে: প্রধান বিচারপতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার বিএনপির জয়ী প্রার্থীকে মিষ্টিমুখ করালেন জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন প্রত্যাখ্যান, শনিবার বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য ২০২৯ সরকারি বাসার ভাড়াটে-সাবলেটগ্রহীদের সরানোর নির্দেশ তাহসিফের মৃত্যু: বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিলো পিবিআই জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি কমলো ১৬৩৩ টাকা বাজারে উঠছে শীতের সবজি, দামে নিয়ে বিপাকে ক্রেতারা সৌদিতে কারখানায় আগুন: শনিবার দেশে পৌঁছাবে ৫ যুবকের মরদেহ হ্যাটট্রিকে ক্যারিয়ারের ৯৮৫ গোল পূরণ করলেন রোনালদো ৫ নতুন মুখ নিয়ে ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণা কবে ফিরছেন মাঠে, অবশেষে জানালেন মার্তিনেজ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ছাড়াল ১১৫ ডলার

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ উপচে বন্যার ঢল, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১ জন দেখেছেন
আপডেট : October 30, 2026
ভুটানে হিমবাহের হ্রদ উপচে বন্যার ঢল, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ উপচে আকস্মিক বন্যার ঢল নেমেছে। এতে দেশটির একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের স্থাপনা ভেসে গেছে। বন্যার পানি নদীপথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় ওই দুই রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় জারি করা হয়েছে সতর্কতা।

এদিকে ভুটানের বন্যার পানি যে নদীপথ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিশেছে। ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশে যমুনা নামে প্রবাহিত হওয়ায় এ বন্যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদে হিমবাহের পানি উপচে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এতে গাসা জেলার মো ছু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ কেন্দ্র গাসা ছাচুর সব স্থাপনা পুরোপুরি ভেসে গেছে। তবে আগেই এলাকাটি খালি করে ফেলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

মো ছু নদীর উৎসস্থলে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদকে ভুটানের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি হিমবাহ হ্রদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট বড় ধরনের আকস্মিক বন্যায় গাসা ছাচু ভেসে গিয়েছিল। সেবার মো ছু নদীর পানি বেড়ে গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে উষ্ণ প্রস্রবণ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার পানি পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে কাবেসা গেওগের স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করেছে।

এমন অবস্থায় ভুটান সরকার পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সরকারকে সতর্ক করেছে। কারণ, দেশটির সীমান্তবর্তী ভারতীয় জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে আসামের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়ি এলাকা, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলা।

পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকোশ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। নদীটির উৎপত্তি উত্তর ভুটানে। মো ছু ও ফো ছুসহ উজানের কয়েকটি বড় উপনদীর মিলিত প্রবাহে নদীটি গঠিত হয়েছে। পরে এটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিশেছে।

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ বলেন, ‘সবার প্রতি আমার আবেদন, কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। প্রশাসন পুরোপুরি তৎপর এবং সব সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাই উদ্বেগের কিছু নেই। আশা করছি, আগামী দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে আমরা পরিস্থিতির সমাধানে পৌঁছাতে পারব এবং সাধারণ মানুষ যে সমস্যার মুখে পড়েছেন, তা মোকাবিলা করতে পারব।’

এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুনাখার গুমা গেওগের দোছুখা-জোমলিংথাং-রিতসা চিওগ এলাকায় সেচসংকট সমাধানে চলতি বছরের শুরুতে একটি সৌরচালিত সেচের পানি উত্তোলনব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছিল। গত রাতে মো ছু নদীর আকস্মিক বন্যায় ব্যবস্থাটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, ব্যবস্থাটি এখন আর কাজ করছে না। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আকস্মিক বন্যায় ভেসে আসা পলি ও ধ্বংসাবশেষে জোমলিংথাং এলাকায় পুনাখা-গাসা মহাসড়কের একটি অংশ ঢেকে গেছে।

হিমবাহ হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (জিএলওএফ) হলো হিমবাহের পেছনে তৈরি হওয়া হ্রদে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি হঠাৎ বেরিয়ে আসার ঘটনা।

হিমবাহ গলে যাওয়া বা আয়তনে ছোট হয়ে আসার ফলে এ ধরনের হ্রদের সৃষ্টি হয়। এটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হলেও মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

মূলত হ্রদের পানি আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি প্রবল বেগে নেমে আসে এবং ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস, তুষারধস, ভূমিকম্প কিংবা হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে এ ধরনের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।

এদিকে ভুটানের বন্যার পানি যে নদীপথ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিশেছে। ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশে যমুনা নামে প্রবাহিত হওয়ায় এ বন্যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েকটি এলাকায় কেবল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ বন্যার সম্ভাব্য প্রভাব বা ঝুঁকি সম্পর্কে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। তাই পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি এবং উজানের পানিপ্রবাহের ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যান্য সংবাদ