মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আপত্তিকর ভিডিও প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পরীমনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার গ্রেপ্তার বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ বাতিল ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ নতুন দামে ১ লাখের ঘরে মিলবে ১ ভরি স্বর্ণ দল চাইলে মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি: ইশরাক ক্যান্সার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের আস্থা; মানতে হবে কঠিন শর্ত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ কমেছে ডাকাতি-খুন-নারী নির্যাতন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী মণ্ডপে মণ্ডপে কুমারী পূজা, ভক্ত-পূজারীদের ভিড়

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক / ৩৪ জন দেখেছেন
আপডেট : October 19, 2026
নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।

ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।

কর্মকর্তাদেরও একইভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি কোথায় কী সমস্যা আছে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।

এ সময় যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষাট বা সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে। আফসোস করে বসে না থেকে নিজেদের দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন তিনি।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।

নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মোপলব্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। পাশাপাশি এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও দেখেন।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


অন্যান্য সংবাদ