রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দূর্গা পূজায় এবার সরকারি ছুটি ৫ দিন! তৃতীয় দফা কমলো সোনার দাম  এবার ১০ এয়ারবাস কিনবে সরকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ভারতের রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ওয়ার্নারের জোড়া শাস্তি ভারত সফর নিয়ে দিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় ঢাকা বিয়ের খবর কি সত্যি? মুখ খুললেন পূজা লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি VACANCY ANNOUNCEMENT যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ সিন্ধুর পানি ইস্যুতে প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হবে : খাজা আসিফ আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম দ. কোরিয়ার সাবেক মন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড

ডেঙ্গুর আচরণে পরিবর্তন : শঙ্কায় চিকিৎসকরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯২ জন দেখেছেন
আপডেট : August 24, 2021

করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই রাজধানীতে চোখ রাঙিয়ে চলেছে ডেঙ্গু। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শতাধিক মানুষ। প্রাণও হারাচ্ছেন অনেকে। করোনার প্রভাবে হাসপাতালগুলোতে চলমান শয্যা সংকটকে আরও প্রকট আকারে নিয়ে যাচ্ছে এই ডেঙ্গু সমস্যা।

চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু্ এই সংকটই নয়। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের ডেঙ্গু রোগের ধরনেও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। এবার অধিকাংশ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর রক্তের প্ল্যাটিলেট বিপদসীমার নিচে চলে যাচ্ছে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়ার পরও প্ল্যাটিলেট বাড়তেও অনেক বেশি সময় নিচ্ছে আগের বছরগুলোর তুলনায়। বিশেষ করে পূর্বে আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি বেশি হচ্ছে বলেও মনে করেন চিকিৎসকরা।

এদিকে, করোনা ও ডেঙ্গু উভয় রোগে জ্বরের উপসর্গ থাকায় টেস্ট না করিয়ে অনেকেই মনমতো চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা। এছাড়া, একসংগে উভয় রোগে আক্রান্ত হয়েও বহু রোগী আসছেন হাসপাতালগুলোতে।

এমন পরিস্থিতিতে জ্বর হলেই ডেঙ্গু-করোনা দুটোই টেস্ট করা প্রয়োজন মনে করছেন চিকিৎসকরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ডা. ফজলে রাব্বী চৌধুরী বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু রোগী হ্যান্ডেল করছি। এবারে যে ডেঙ্গু রোগীরা আসছেন তাদের অধিকাংশের প্লাটিলেট খুব দ্রুত নেমে যাচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি বিপদসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। রিকোভারির সময় প্লাটিলেট উঠতেও বেশ সময় নিচ্ছে।

প্লাটিলেট ছাড়াও আমরা আরেকটি যে বিষয়ে গুরুত্ব দিই সেটা হলো হেমোটাক্রিট। সেটার উপরও বিরূপ প্রভাব দেখা যাচ্ছে, সেটা রিকোভারি হতেও অনেক সময় নিচ্ছে। তাছাড়া ডেঙ্গুর শক দ্রুত ডেভেলপ করছে এবং কমপ্লিকেশনও বেশি দেখা যাচ্ছে, বলছিলেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ফজলে রাব্বী চৌধুরী।

কেন এমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জানি ডেঙ্গুর চারটি স্ট্রেইন রয়েছে। কেউ আগে একটি দিয়ে আক্রান্ত হয়ে থাকলে, তিনি যদি পরবর্তীতে ভিন্ন কোনো স্ট্রেইন দিয়ে আক্রান্ত হন, তাহলে তার ক্ষেত্রে তীব্রমাত্রায় ডেঙ্গু হওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়। আমাদের দেশে ২০০০ সালে ডেঙ্গুর বড় সংক্রমণ দেখা গেছে, এরপর ২০১৮-১৯ সালেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। সম্ভবত নতুন কোনো স্ট্রেইন দিয়ে এবার অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এজন্য তীব্রতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

পিসিআর–এর মাধ্যমে সেরো অ্যানালাইসিস না করে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মুখপাত্র ও শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আয়শা আক্তার বলেন, এখন ডেঙ্গু এবং করোনা- দুই রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী আসেন হাসপাতালগুলোতে। এদের চিকিৎসা দিতে একটু হিমশিম খেতে হয়। অধিকাংশ রোগীই আসছেন শেষ মুহূর্তে। অনেক রোগীই টেস্ট না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাচ্ছেন। এরা নিজেকে বেশি বিপদে ফেলছেন। আমরা বলবো, জ্বর হলেই টেস্ট করুন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিন, তাহলে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।

ডেঙ্গু ও করোনা ভাইরাস উভয় রোগ থেকেই বাঁচতে সচেতনতায় গুরুত্ব দেওয়ারও পরামর্শ দেন ডা. আয়শা আক্তার।


অন্যান্য সংবাদ