মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দূর্গা পূজায় এবার সরকারি ছুটি ৫ দিন! তৃতীয় দফা কমলো সোনার দাম  এবার ১০ এয়ারবাস কিনবে সরকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ভারতের রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ওয়ার্নারের জোড়া শাস্তি ভারত সফর নিয়ে দিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় ঢাকা বিয়ের খবর কি সত্যি? মুখ খুললেন পূজা লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি VACANCY ANNOUNCEMENT যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ সিন্ধুর পানি ইস্যুতে প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হবে : খাজা আসিফ আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম দ. কোরিয়ার সাবেক মন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড

ঝুলে আছে ১৯১৯ চিকিৎসকের নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭১ জন দেখেছেন
আপডেট : October 13, 2021

দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন পদ সৃষ্টি হচ্ছে না, শূন্য রয়েছে অনেক পদ। রয়েছে চিকিৎসক সংকট।  সংকটের পরেও ৪২তম বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রায় দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। পিএসসি বলছে, পদ স্বল্পতার কারণে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। অথচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, ১১ হাজার পদ শূন্য। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, ‘তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।’

মুজিববর্ষে স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ও করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ৩০ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দুই হাজার চিকিৎসককে ‘সহকারী সার্জন’ পদে নিয়োগের কথা বলা হয়। পরে ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সভায় আরও চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পিএসসির মোট ছয় হাজার চিকিৎসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত থাকলেও অদৃশ্য কারণে পরে ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার এক বিজ্ঞপ্তিতে চার হাজারের পরিবর্তে দুই হাজার অতিরিক্ত চিকিৎসক নেওয়ার কথা জানানো হয়। ৪২তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী মোট পাঁচ হাজার ৯১৯ জন উত্তীর্ণ হলেও পিএসসি পদ স্বল্পতার কারণে চার হাজার জনকে সহকারী সার্জন পদে নিয়োগের সুপারিশ করে। অবশিষ্ট ১৯শ ১৯ জনকে পদ স্বল্পতার কারণে নিয়োগে সুপারিশ করেনি।

সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠেছে। স্বাস্থ্যের তথ্য জানে না সুপিরিয়র মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন। চিকিৎসকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিএমএ-ও দেখছে না দুই মন্ত্রণালয়ের দায়। তারা দুষছে পিএসসিকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডাক্তার ও জনসংখ্যার অনুপাত ১: ১০০০ থাকতে হয়। সেখানে বাংলাদেশে আছে ১: ১৭২৪।

জান যায়, ৩৮তম বিসিএস থেকে ২৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৪২তম বিসিএস (বিশেষ) থেকে চার হাজার চিকিৎসক নিয়োগের অপেক্ষায় আছেন। ৪০তম বিসিএস থেকে ২৬০ জন এবং ৪১তম বিসিএস থেকে আরও ১১০ জন চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণের কার্যক্রম চলমান। এরপরও শূন্য রয়ে গেছে ৬ হাজার ৭০৪ পদ। তবে কোভিড পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পাঁচটি বিসিএস পরীক্ষা ও সুপারিশসংক্রান্ত জটে হিমশিম খাচ্ছে বিধায় আগামী ২-৪ বছরের আগে এসব শূন্যপদ পূরণ অসম্ভব।

সব মিলিয়ে ৪২তম বিসিএস (বিশেষ) এর চার হাজার জন চিকিৎসক নিয়োগ পাওয়ার পরেও বর্তমানে দেশের সরকারি চিকিৎসা সেবাদান কেন্দ্রগুলোতে ছয় হাজার ৭০৪টি পদ শূন্য থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের এইচআরআইএস রিপোর্টের (গত ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখের) তথ্যানুযায়ী, শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেই চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে পাঁচ হাজার ৮৪৮টি। এছাড়া, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, করোনায় এ পর্যন্ত ১৮৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মারা গেছেন। ফলে, কিছুটা হলেও দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট তৈরি হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

৪২তম বিসিএস (বিশেষ) হতে উত্তীর্ণ অপেক্ষমাণ এই ১৯শ ১৯ জন চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হলে এই সমস্যা ও সম্ভাব্য সংকট অনেকাংশে লাঘব হবে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী পিএসসিকে দোষারোপ করছেন।

তিনি  বলেন, পিএসসি বলছে, উত্তীর্ণ কিন্তু পদ নেই। এটাই ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। কারণ পিএসসিকে তো বলা হয়েছে, আমার এতজন পদের বিপরীতে আপনি লোক নেন। বলা হয়েছে, চার হাজার নিতে, তাদের তো বলা হয়নি ছয় হাজার নিতে। ঝামেলাটা এখানেই। এগুলো তো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। টপ মার্ক দেখে আপনি চার হাজার নিয়ে নেবেন, শেষ। আপনি বললেন, ছয় হাজার উত্তীর্ণ, চার হাজার নিলাম আর বাকিগুলো ওয়েটিং। এটাই তো সমস্যা।

 


অন্যান্য সংবাদ