শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জনগনের কষ্ট লাঘবে কাজ করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দুলু ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু গায়ের জোরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিবাদী আমলে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল হেফাজতে ইসলাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ৩ মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহ শর্টকাটে টাকা উপার্জনের পথ খুঁজলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: মন্ত্রী বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার ৭ নভেম্বরের নেতৃত্বে ‘জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব’ থাকত না আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা করে লাভ হবে না: রিজভী ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নয়, একটি ভাইরাস : শফিকুর রহমান জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ সবজিতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি, মাছ-মাংসে কমছে না খরচ ডিসেম্বর ঘিরে চারদিকে শঙ্কা, কী ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে? বিকল্প পথে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরও এক চালান নতুন তিন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

ইজরায়েলে নেতানিয়াহু শাসনেরও অবসান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১ জন দেখেছেন
আপডেট : November 6, 2026
ইজরায়েলে নেতানিয়াহু শাসনেরও অবসান?

ভোট দিয়েছেন ইজরায়েলের মানুষ। কিন্তু কেউ যেতেনি। আর তাই সরকার গঠনের ছবিটা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট ইজরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট ১২০টি আসনের মধ্যে ৫৩টি আসন পেয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে কোনও পক্ষই এককভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ভারতীয় রাজনীতির ভাষায় বলতে গেলে, ইজরায়েলেও তৈরি হয়েছে হাং পার্লামেন্ট। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, কোন পক্ষ ৬১টি আসনের সমর্থন জোগাড় করতে পারবে?

কী বদলেছে এবারের নির্বাচনে?
নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এখনও ইজরায়েলের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। তাদের ঝুলিতে রয়েছে ২৭টি আসন। ২০২২ সালের নির্বাচনে এই দলের আসনসংখ্যা ছিল ৩২। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় এবার ৫টি আসন কম পেয়েছে লিকুদ।

অন্যদিকে, আরব দলগুলি এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন এবং রা’আম পেয়েছে ৮টি আসন। সব মিলিয়ে আরব দলগুলির আসনসংখ্যা ১৯। ২০২২ সালে তাদের আসনসংখ্যা ছিল ১০। অর্থাৎ, এবার ঐতিহাসিক ফল করেছে আরব দলগুলি।

এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হারও বেড়েছে। প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালে এই হার ছিল প্রায় ৭১ শতাংশ।

অঞ্চলভেদে বিভক্ত ইজরায়েল
ইজরায়েলের ১২২৪টি এলাকার নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভোটের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভৌগোলিক বিভাজন দেখা গিয়েছে। জেরুজালেম জেলায় ৬৭.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর জোট। দক্ষিণ ইজরায়েলেও ৫১.২ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে তারা। অন্যদিকে, তেল আভিভের আশপাশের এলাকায় ৫৬.২ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিরোধী জোট। মধ্য ইজরায়েল এবং হাইফা জেলাতেও এগিয়ে বিরোধীরা। উত্তর ইজরায়েলে ৪৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে আরব দলগুলি। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইজরায়েলি বসতিগুলিতে প্রায় প্রতি ৫টি ভোটের মধ্যে ৪টি ভোটই গিয়েছে নেতানিয়াহুর জোটের পক্ষে।

এদিকে, প্রায় ২০টির মধ্যে একটি ভোট এমন দলগুলির ঝুলিতে গিয়েছে, যারা নির্বাচনে ৩.২৫ শতাংশের প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। এই দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে ইয়োজ হেন্ডেলের নেতৃত্বাধীন রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি। তাদের প্রাপ্ত ভোট ২.৭২ শতাংশ।

নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের বক্তব্য কী?
নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, কোনওভাবেই প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গঠন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চলেছি যে কোনও প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র থাকবে না। এই জায়গা আমাদের।’

এই বিষয়ে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও একমত। তাঁর বক্তব্য, ‘দুই জনগোষ্ঠীর জন্য ২টি রাষ্ট্রের নীতি একটি ভুল।’

গাজা নিয়েও দুই নেতার অবস্থান সামনে এসেছে। নেতানিয়াহুর দাবি, হামাসকে প্রথমে তাদের সমস্ত অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। গত অগাস্টে মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা প্রকৃত অর্থে অস্ত্র ত্যাগের কথা বলছি, কোনও কাল্পনিক প্রক্রিয়ায় নয়।”

তবে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রশ্নে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আইজেনকোট নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, এই ভোটের মাধ্যমে ইজরায়েলবাসীকে বেছে নিতে হবে, ‘নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে যোগদান এড়িয়ে যাওয়ার সরকার, নাকি আমার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের সরকার।’

ভোটের রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে আইজেনকোট বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ ইজরায়েলি মিথ্যা, ব্যর্থতা, বিভাজন এবং উস্কানির সংস্কৃতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।’

সরকার গঠনের জন্য ৩টি সম্ভাব্য পথ
বর্তমান আসনসংখ্যার নিরিখে ইজরায়েলে সরকার গঠনের জন্য ৩টি সম্ভাব্য পথ রয়েছে।

> ইহুদি-আরব জোট: আইজেনকোটের জোটের সঙ্গে ২টি আরব দল হাত মেলালে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশি আসন থাকবে তাদের হাতে। তবে নেতানিয়াহু আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আরব দলগুলির সঙ্গে তিনি সরকার গঠন করবেন না। আইজেনকোট অবশ্য সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তবে তাঁর দলের তরফে কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, আরব দলগুলিকে হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে এবং হামাসের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার পক্ষে সমর্থন জানাতে হবে। এছাড়া আরব সাংসদরা সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে সমর্থন জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে অন্তত ৬ জন আরব সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

> ঐক্য সরকার: লিকুদ, ইয়াশার, টুগেদার এবং ইজরায়েল বেইতেনু—এই ৪টি দল একজোট হলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। তবে এই সম্ভাবনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা নেতানিয়াহু নিজেই। কারণ, গোটা নির্বাচনী প্রচারেই আইজেনকোটের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।

> দলবদল: নেতানিয়াহুর জোটের হাতে রয়েছে ৫৩টি আসন। সরকার গঠনের জন্য আরও আটটি আসন প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে অন্য দলের সাংসদদের সমর্থন আদায় অথবা দলবদলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেন তিনি। ইজরায়েলের রাজনীতিতে সাংসদদের দলবদলের ঘটনা নতুন নয়।

সরকার গঠনে শেষ কথা বলবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ
এবার সরকার গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের উপর। তিনি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর কোনও এক নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। সেই নেতা সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে ফের নির্বাচন হবে ইজরায়েলে। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৫ বার নির্বাচন হয়েছিল দেশটিতে।

এই মুহূর্তে ইজরায়েলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ। কিন্তু সবচেয়ে বড় দল হওয়া মানেই সরকার গঠনের নিশ্চয়তা নয়। প্রয়োজন ৬১টি আসন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা কে জোগাড় করতে পারবেন, এখন সেটাই দেখার।


অন্যান্য সংবাদ